বৈশাখী টেলিভিশনের পদ্ম কুড়ি তারকা সিলেটের বেলাল আহমদ মুরাদ

২০০৭ সালে বৈশাখী টেলিভিশনে পদ্ম কুড়ি তারকা নির্বাচিত হন সিলেটের বেলাল আহমদ মুরাদ। এর মাধ্যমেই মূলত মিডিয়া অঙ্গনে সিলেটের মুরাদ হয়ে উঠেন আঞ্চলিক নাটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘অভিনেতা’ বেলাল আহমেদ মুরাদ।

খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সিলেটি কমেডির জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন তার স্বচ্ছন্দ অভিনয় নৈপুন্যের দ্বারা। ৪-৫মিনিটের এই ভিডিওগুলোতে তিনি সমাজের বাস্তবতা ও ভুলগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তার ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে “আমরা মুরাদের ভক্ত “নামে ফেসবুক পেইজ ওপেন করেন।

তরুণ এই অভিনেতা সিলেটের কলাপাড়া ঘাসিটুলা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতা মোঃ মুক্তার আহমেদ। মাতা মোছাঃবিলকিস বেগম। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। তিনি তাঁর মায়ের প্রচেষ্টায় অভিনয় শিখেছেন।

২০০৬সালে মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।২০০৮ সালে বৈশাখী পদ্মাকুড়ীর সেরা দশে স্থান পান। ইতিমধ্যে তার নাটক ইউটিউবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার আলোচিত নাটকগুলোর মধ্যে তামাশা-১,তামাশা-২,পাতিনেতা ১,২,৩,ওয়ার্ড মেম্বার ইত্যাদি। জনপ্রিয় অভিনেতা তাঁর মন্তব্যে বলেন,” সিলেটি ভাষায় এই নাটকগুলি আমরা তৈরী করেছি শুধুমাত্র সিলেটের ভাষাকে সর্বমহলে পরিচয় করানোর জন্য,আপনাদের সহযোগীতা পেলে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে”।

ভক্তরা মনে করেন তাঁর অভিনিত কমেডি নাটক সিলেটের সংস্কৃতিকে দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।

একুশে টেলুভিশনের ধারাবাহিক নাটক ছক্কাপাঞ্জায় অভিনয় করলেন সিলেটের জনপ্রিয় অভিনেতা বেলাল আহমেদ মুরাদ। খ্যাতিমান পরিচালক বনি চৌধুরির ও ইমাম রিপন এর পরিচালনায়। বাংলাদেশের খ্যাতিমান অভিনেতাদের সাথে সিলেটের কোটি মানুষের প্রিয় অভিনেতা বেলাল আহমদ মুরাদকেও দেখা যাবে।

বেলাল আহমদ মুরাদের এমন সাফল্যে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত ফেইসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মিডিয়া প্রডাকশন গ্রীণ বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত সিলেটের অভিনেতা মুরাদের অনেক নাটিকা দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

এর মধ্যে সম্প্রীতি প্রচারিত জিলাপি, পিপড়া বাবা, পাতিনেতা ১-৫, টাউট ঘরজামাই-১,২, ছিনতাই, শক্তের ভক্ত, বরবাদ ছেলে, বেয়াই-১, ভাড়াটিয়া-১, কিপটা শামীম, ডিজিটাল বিয়ে, তালবাজ-১,২, ভূয়া উকিল, ৪২০-সাংবাদিক, প্রবাসী, ঝুফরা মতিন, ডিস্টার্ব-১,২,৩, তামাসা-১,২,৩ সহ সবকটি নাটিকা বিভিন্ন দেশে অবস্থিত সিলেটিদের প্রশংসা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে। বেলাল আহমদ মুরাদ অনেক দূর এগিয়ে যাবেন বলে তার ভক্তরা শুভকামনা ব্যক্ত করেছেন। সিলেটের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্টেজ শো’র মাধ্যমে সিলেটের মুরাদ সকলের কাছে জনপ্রিয় অভিনেতায় পরিণত হন। গ্রীন বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে তার নাটিকাগুলাে প্রচারিত হলে তার দর্শকপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়।

মুরাদের নাটিকা গুলো দেখে অনেক ভাললাগে এবং অনেক কিছু শিখা যায়,আমি মনে করি মুরাদ বাংলাদেশের মধ্যে একজন শ্রেষ্ঠ কমেডি অভিনেতা। জনপ্রিয় এই অভিনেতা বলেন” সিলেটি ভাষায় নাটিকা গুলো আমরা তৈরি করছি শুধুমাত্র সিলেটের ভাষাটাকে সর্বমহলে পরিচিত করার জন্য। আপনাদের সহযোগীতা পেলে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রতি সপ্তাহে সোমবারে গ্রিন বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে একটি করে শিক্ষণীয় নাটিকা আপলোড করা হয়।

অপসংস্কৃতির ভিড়ে অভিনেতা মুরাদের শিক্ষণীয় এই নাটিকা গুলি খুব ভালো ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তার ভক্ত অনুরাগীরা। সর্বশেষ প্রচারিত তার নাটিকা পাতিনেতা সিরিয়াল ও ডাক্তার খুব আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার এই নাটিকা গুলা সিলেট তথা জাতীয় মিডিয়ায় ভুমিকা রাখবে বলে মনেকরেন সিলেটের সাংস্কৃতিক প্রেমিরা।
মুরাদের সাথে আরো কাজ করছেন খলিলুর রহমান খান, মতিউর রহমান সাদেক, প্রিন্স বিপ্লব, মিজানুর রহমান শামিম, শাহ ফাহিম মাহমুদ, আমিনুল ইসলাম, আদনান আহমেদ, আলি আহমেদ মাজেদ, তানভির আহমেদ, একঝাক সংস্কৃতি করমি।

সিলেটের প্রথম বেলাল আহমদ মুরাদ পরিচালিত গ্রীণ বাংলা এবার ইউটিউব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘সিলভার বাটন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে। সিলভার বাটন অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বেলাল আহমদ মুরাদ বলেন, এই সিলভার বাটন অ্যাওয়ার্ড শুধু আমার নয় এটি গ্রীণ বাংলার সকল সদস্য দের এবং দেশে বিদেশে থাকা সকল দর্শদের, কেননা দর্শকদের ভালোবাসা না পেলে আমাদের গ্রীণ বাংলা সিলভার বাটন অ্যাওয়ার্ড পেতো না।

লেখকঃ হামিদুর রহমান 

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.