বিশ্ব মাতালেন বিয়ানীবাজারের মেয়ে নাদিয়া হোসাইন

কেন যেন সমাজে গৃহবধূদের সাধারণ বলা হয়। কেন যেন মনে করা হয় বাসায় আসলে তাদের কোন কাজও থাকে না। আসলেই কি তাই? বাসার কাজকে আজও কেন কাজের তালিকায় ধরা হয় না সেটা আধুনিক সমাজে প্রশ্ন বটে। সেই প্রশ্নের উত্তর যাই হোক থেমে থাকেনি সমাজের চোখে সাধারণ হয়ে থাকা মানুশগুলোর অসাধারণ হয়ে ওটার গল্প। সম্প্রতি এমনই এক গল্প জাগিয়েছে এদেশের মানুষকে। করেছে আন্দোলিত। সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে ভেসে আসা এক সংবাদে নড়েচড়ে বসেছে দেশের মিডিয়া। তিনি আর কেউ নন, তিনি হলে গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ ২০১৫-এর বিজয়ী নাদিয়া হোসাইন

  • পরিচিতি

নাদিয়া হোসাইন ২৫ ডিসেম্বর ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহন করেন তার জন্ম লন্ডনের লুটন শহরে। তাঁর পৈতৃক বাড়ি সিলেট এর বিয়ানীবাজারের মোহাম্মদপুর গ্রামে। উনার বাবার নাম জমির আলী এবং মাতার নাম আসমা। পরিবারে চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে নাদিয়া তৃতীয়। তাঁর স্বামীর নাম আবদাল হোসেন। এ দম্পত্তির তিন সন্তান রয়েছে।

  • কর্মজীবন

২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল পালিত হয় ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৯০ তম জন্মদিন। সেই জন্মদিনে কেক বানিয়েছেন নাদিয়া হোসেন। রানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবেই নাদিয়াকে ৯০তম জন্মদিনের কেক বানানোর জন্য অনুরোধ করা হ্য়।

  • বিস্তারিত

লুটনে বেড়ে ওটা নাদিয়ার শিরায় বাংলাদেশের রক্ত। এজন্য তিনি হার মানতে শিখেননি। সেটি অনন্যা দর্শকরাও মনে করেন নাদিয়া সম্পর্কে। এজন্যই প্রতিযোগিতায় যখন একবার তাঁর তৈরি করা বিস্কুটের পাত্র ভেঙ্গে যায়  তিনি একটুও বিচলিত না হয়ে সেটা নিয়ে উলটা মজা করেন।সামলে নেন পরিস্থিথি। শো এর ধাপে ধাপে নাদিয়া হোসাইন বেকিং কৌশলে সৃজনশীলতার যে পরিচয় দিয়েছেন তা তাক লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্বকে। বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন চাইলেই যে কেউ পারে মনের ইচ্ছা পুরণ করতে। তাই নিজের বিয়েতে কেক না থাকার দুখটা তিনি লাগব করলেন। বানালেন লেমন ড্রিজল কেক। লক্ষ লক্ষ দর্শকদের সামনে স্বামীর পছন্দের স্বাদে ভরা কেক বানিয়ে জয় করলেন বিচারকদের মন।সহজ-সরল জীবন জাপনে অভ্যস্ত নাদিয়া নিজের সাফল্যকে পরিবারের বড় ভুমিকা বলে মনে করেন। স্বামী আর সন্তানদের সহযোগিতা না ছাড়া এমন মধুর অস্ত্রে পৃথীবি মাত করা যেত না। এই বিজয় তাকে অনেক আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। পাশাপাশি পরিবারের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি।গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ প্রতিযোগিতার বিজয়ী নাদিয়া হোসেনকে নিয়ে সবাই তোলপার হলেও,শো এর দর্শকরা আগে থেকেই তাকে নিয়ে গবেষনা করে রেখেছিলেন। নাদিয়ার অভিব্যক্তি, ভুলের পরে হাসিতে সামলে নেওয়া, বেকিং এর মাঝে ছোটখাটো কিন্তু অসাধারন সব সংজোযন এবং সহজ সরল ভাবের প্রকাশ সব মিলিয়ে সবার পছন্দের তালিকার উপরেই ছিলেন নাদিয়া।

৯০তম জন্মদিনে কেক কাটছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, পাশে নাদিয়া।

আর না বললেই নয়, নাদিয়া হোসাইন যে কেকটি বানিয়ে ব্রিটিশদের মাঝে জয় লাভ করলেন, সেই কেকটিতে ছিল একদম বাংলাদেশের বিয়ে বাড়ির আমেজ। হয়তো এর মাধ্যমে নাদিয়া নিজের বিয়ের স্মৃতির মধ্যে থাকা অপুর্ণ স্থানটিকে পুরন করলেন কেক বানিয়ে। আর উপহার হিসেবে নিলেন কেক সম্রাঙ্গীর মুকুট।


লেখকঃ Mustafa Shakir

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.