গ্রেটা থানবার্গঃ ১৬ বছর বয়সী জলবায়ু কন্যা!

সারাবিশ্বের টিনেজারদের মধ্যে সর্বপ্রথম সুইডেনের অধিবাসী ১৬ বছর বয়সী গ্রেটা থানবার্গ বিশ্বের জলবায়ু পরির্তন এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সে এতবেশী হতাশাগ্রস্ত ছিলো যে, সে স্কুলে যাওয়া বাদ দিয়ে দিয়েছিল এবং এই জলবায়ু পরিবর্তন নামক সংকট নিরসনের উপায় খুঁজছিলো। আট বছর বয়সে গ্রেটা যখন জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে পড়েছিলো, তখন সে এই ভেবে আতঙ্কিত হয়েছিলো যে, প্রাপ্তবয়স্ক লোকেরা কেনো এই বিষয়টাকে গুরুত্ব দিচ্ছেনা।

তখন থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারন ও প্রভাব সম্পর্কে সে পড়তে শুরু করে। পনের বছর বয়সে সে এই বিষয় নিয়ে এতো গভীরভাবে চিন্তা করা শুরু করলো যে, সে কিছুটা মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ২০১৮ সালে সে স্কুলে যাওয়া বাদ দিয়ে দেয়।

সে জলবায়ু নিয়ে মা-বাবার সাথে কথা বলে এবং এই সংকট নিরসনের উপায় খুঁজতে থাকে। কিন্তু, তার পিতা-মাতা তাকে এই বলে সান্তনা দেয় যে, একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। তারা এ বিষয়ে তখন তাকে কোন সাহায্য করেনি।

অবশেষে, গ্রেটা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আরো ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করে এবং মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে সে জলবায়ু নিয়ে ছবি, গ্রাফ, আর্টিকেল, রিপোর্ট লেখা শুরু করে এবং মা-বাবার সাথে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করলো। এরপর থেকে তার মা-বাবা তার চিন্তাধারা সম্পর্কে বুঝতে পারলো।

ফ্লোরিডার “দা পার্কল্যান্ড” নামক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের একটি গ্রুপ আছে যারা জলবায়ু আন্দোলনকে উৎসাহিত করে। গ্রেটা জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ঐ গ্রুপের সহায়তা চাইলো। কিন্তু, তারা তার সাথে থাকতে রাজী হলোনা।

অবশেষে, গ্রেটা একা কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলো। তার বক্তব্যটা ছিলো এমন, “Some People Can Let Things Go, I Cant”

গ্রেটা থানবার্গ

গ্রেটা প্রথমে একটি ব্যানারে লিখলো,

“Skolstrejk For klimated” (School strike for climate)

গ্রেটা থানবার্গ

তারপর, এই ব্যানার নিয়ে ২০১৮ সালের 20শে ফেব্রুয়ারী একাই সুইডিশ পার্লামেন্টের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলো। তার বাবা-মা তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু পারেনি। তার সহপাঠীরা তার সাথে থাকতে অস্বীকৃতি জানালো, পথিকরা ১৫ বছর বয়সী অপরিচিতো মেয়েটিকে পরাজিত অবস্থায় বসে থাকতে দেখে দয়া প্রকাশ করলো। কিন্তু, সবকিছু উপেক্ষা করে সে রোদ, বৃষ্টি ,স্নো সহ্য করে সে একাই তার আন্দোলন অব্যাহত রেখেছিলো। এভাবে  আট মাস চলে যায়।

এরপর, ২০১৯ সালে সারা বিশ্বের ৭০০টির বেশি জায়গায় এবং ৭১টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে, এ আন্দোলন পৃথিবীর বৃহত্তম বিক্ষোভ মিছিল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে, গ্রেটা হাজারো মানুষের সামনে জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর প্রভাব সম্পর্কে বক্তৃতা দেন।

লেখকঃ Samia Rahman
আরও পড়ুনঃ
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.