স্বামীকে কিডনি দান করে স্ত্রীর ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী নুরুল ইসলাম। তার বয়স ৪৫ বছর। সংসারের তাগিদে বহু বছর থেকে প্রবাসে তার অবস্থান। তার পৈতৃক বাড়ি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিন শাহবাজপুর ইউনিয়নের ঘোলসা গ্রামে।

পঁচিশ (২৫) বছর আগে তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন একই গ্রামের একই গ্রামের রওয়াব আলীর মেয়ে হোসনা বেগমের। বিয়ের পরেই তিনি জীবিকার তাগিদে দুবাইয়ে পাড়ি জমান।

সবকিছু ভালোভাবেই চলছিলো। কিন্তু বিগত কয়েকবছর থেকে নুরুল ইসলাম বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঐখানকার ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে সনাক্ত করেন তার দুই(২)টা কিডনী-ই নষ্ট। এমতাবস্থায় একটাই চিকিৎসা, আর তা হলো কিডনি প্রতিস্থাপন। এমন অবস্থায় নুরুল ইসলাম পড়ে যান বিপাকে।

টাকাপয়সা তার বৈদেশিক ভিসা ব্যবস্থায় হয়ে গেলেও কোথায় পাবেন কিডনি ডোনার! এই অবস্থায় চোখে-মুখে যখন অন্ধকার দেখছিলেন নূরুল। অনেকটা আশাহত হয়ে পড়েছিলেন। ঠিক তখনই আশার আলো হয়ে তার পাশে দাঁড়ালেন স্ত্রী’। নিজের জীবনের কথা না ভেবে স্বামীকে বাঁ’চাতে নিজের একটি কিডনি দিবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন।

সম্প্রতি নুরুল ইসলামের স্ত্রী হোসনা বেগম যান সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখানে আবুধাবী শেখ খলিফা হাসপাতালে Allograft, cross matching সহ যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। ডোনার এবং রিসিভার দুইজনের আরো কিছু পরীক্ষাও চালানো হয় যা চিকিৎসা ভাষায় preoperative precaution বলা হয়।

অবশেষে দুজনের পরীক্ষাগুলোর ফলাফল পজিটিভ হওয়ায় গত ১৬ অক্টোবর ঐ হাসপাতালের চিকিৎসকরা হোসনার দেওয়া কিডনি নূরুলের দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ডোনার এবং রিসিভার মানে হোসনা বেগম ও নুরুল ইসলাম সম্পূর্ন সুস্থ আছেন।

চিকিৎসকরা তাদের দুইজনকে গভীর পর্যবেক্ষনে রেখেছেন। তারা আরো জানিয়েছেন পুরোপুরি সুস্থ ও বিপদমুক্ত হতে হয়তো আরো কিছুদিন লাগতে পারে। এর মধ্যে তারা আরো কিছু postoperative investigations চালাবেন। এইযুগে হোসনা বেগম স্বামীর জন্য নিজের কিডনী দান ভালোবাসার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আরিফ হাসান
আরও পড়ুনঃ
   
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.