শোভনের কাছে খোলা চিঠি!

প্রিয় শোভন, তোমার সাথে আমার কোনদিন দেখা হয় নাই, অথবা রাজনীতির মাঠে দেখা হয়েছিলো কিন্তু তা আমার মনে নাই। দেখা হবে কি না তাও জানি না? হয়তোবা হলেও হতে পারে। তোমাকে উদ্দেশ্য করে আজ আমার এই খোলা চিঠি। জানি না তুমি এই চিঠি পড়বে কি না ? 
ভাই, তোমাকে যেদিন আমার প্রাণপ্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব তোমার হাতে দিয়েছে সেদিন থেকে তোমার সম্বন্ধে অনেকের কাছে খোজ খবর নিয়েছি যে, ছেলেটি কেমন ? সে কি পারবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে একটি অশুভ সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্ত করতে? সে কি পারবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়া থেকে মুক্ত করতে? তোমাকে নিয়ে আমি (বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মি) অনেক চিন্তা এবং পর্যবেক্ষন করেছি।। তবে আমার এক আত্মবিশ্বাস ছিলো যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আবিষ্কার তুমি। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আবিষ্কার কখনো বৃথা যায় নি। তাই সবসময় আশাতীত ছিলাম এবং তোমার কার্যক্রম যতটুকু পারি তা ফেইসবুক এবং পরিচিত মানুষের দ্বারা খোজ রেখে যেতাম।
আমি যতটুকু তোমার কার্যক্রমে দেখেছি তাতে খুবই পুলকিত হয়েছি এই ভেবে যে, না অনেকদিন পর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দায়িত্ব যোগ্য নেতৃত্বের হাতে পরেছে। তুমি এবং তোমাদের মত নেতৃত্ব এই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দরকার সবসময়। যারা নিজ গুণে এগিয়ে যাবে মুজিব আদর্শের একজন প্রকৃত সৈনিক হিসেবে। 
এইবার আসা যাক ঢাকসু নির্বাচন প্রসংগে। 
তুমি ঢাকসু নির্বাচনে প্রতিদন্ধিতা করেছো এবং সেখানে 
নুরু নামে একজনের কাছে কিছু ভোটের ব্যাবধানে হেরেছো। নুরু মিডিয়ার সৃষ্ঠি, তাকে মিডিয়া এবং কিছু মানুষ তৈরি করেছে।। বাংলাদেশের মিডিয়া প্রায়ই এইরকম কিছু ইস্যু তৈরি করে থাকে এবং তাতে কারো পৌষ মাস হয় আর কারো সর্বনাশ হয় যেমনটা হয়েছিলো আমাদের।
ভাই শোভন, আমি তোমার প্রতি আরো বেশি pleased হয়েছি যখন দেখেছি তুমি নব্য নির্বাচিত ভিপি নুরের সাথে দেখা করে তাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করার আশ্বাষ দিয়েছো। 
আমি আরো বেশি প্লিজড হয়েছি একটা ভিডিও ফুটেজ দেখে। যেখানে, একটা অর্নি না কি যে নামের একজন মেয়েরুপি মানুষের সাথে দেখা হওয়ার পর তার সাথে কথা বলে হেন্ডশেক করেছো। এবং কে যেনো তোমার সাথে তার ছবি তোলতে বলার কথা বলার পর সে তোমাকে সন্ত্রাসী বলে প্রত্যাখান করেছে। আমি আশ্চর্য হয়েছি তোমার ধৈর্য দেখে।। 
সেলুট তোমাকে ভাই যে, ক্ষমতা থাকার পরেও তুমি সেখানে মাথা ঠান্ডা করে চলে এসেছো। কারো উস্কানিতে পা দেওনি। তোমাকে যে মেয়েটি সন্ত্রাসী বলে অপমান করেছে সে, জীবনে কোন সন্ত্রাসী অথবা ভালো মানুষের সামনাসামনি হয় নাই অথবা সে যে, ভাব নিয়েছে এইটা তার জন্মগত সমস্যা। 
কিন্তু, আমি তোমাকে সেলুট জানাই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি তুমি। তোমার হাতে সমগ্র বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের নেতৃত্ব। যে দ্বায়িত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তোমার হাতে দিয়েছে তা সঠিকভাবে পালন করলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইতিহাসে তোমার নাম স্বর্নাক্ষরে লিখা থাকবে। 
ভাই, অর্নির মত বেয়াদবদের কথায় মনে কিছু নিও না। এইসব বেয়াদবদের ঠিকানা কোথায় হয় তা ইতিহাস জানে। একসময় এক বেয়াদব ছিলো যে কিনা জাতির পিতার চামড়া খুলে নিতে চেয়েছিলো কিন্তু বিধাতার কি খেলা দেখো এখন সে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের করুনায় মন্ত্রী। এবং তার মুখে জাতির পিতার গুণগান। 
বেশি কিছু বলে ফেললাম মনে হয়।
মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেইখো। 
ইতি
A K M Tipu
সাবেক কর্মি 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.