রাঁধুনিশিল্পে সফল উম্মি সেলিম আলিশবার গল্প

বর্তমান সময়ে মেয়েদের উপার্জন করার অনেক কৌশল রয়েছে। মেয়েদেরকে দূর্বল ভাবতে নেই, মেয়েরা চাইলে সব করতে পারে। মেয়েরা ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করে সাফল্য অর্জন করতেছে।

যেমন, আমাদের বাংলাদেশের মেয়ে উম্মি সেলিম আলিশবা। তিনি বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় রাঁধুনি। তিনি কিভাবে জনপ্রিয় হলেন? উম্মে সেলিম আলিশবার  রান্নাবান্না নিয়ে সব সময় আগ্রহ ছিলো।

কিন্তু তিনি নিয়মিত রান্না কতেন না। ঈদের সময় নতুন নতুন রান্না করতেন শখ করে। তিনি তার মাকে সাহায্য রান্নার কাজে সাহায্য করতেন। আলিশবা স্ট্যাম্ফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রেজুয়েশন শেষ করার পর তার পুরো সময়টুকু দিয়েছিলেন রান্নার কাজে।

তিনি কখনো চিন্তা করেতেন না তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠবেন। উম্মে ২০১২ সালে আমেরিকা চলে যান স্বামীর সাথে । সেখানে গিয়ে তিনি রান্না করতে শুরু করেন, একা একা সারাদিন রান্না নিয়ে ব্যাস্ত থাকতেন।

তখন তাকে সাহায্য করার মতো কোন লোক ছিলো না। তিনি শখ করে নতুন নতুন  রান্না করতেন কারণ তার স্বামী নতুন নতুন রান্না পছন্দ করতেন। তাই তিনি প্রতিদিন  নতুন নতুন রান্নার রেসেপি বানাতেন। এভাবে তিনি আস্তে আস্তে রান্নার সব দায়িত্ব নিজের হাতে নেন।

২০১৫ সালে তিনি একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলেন। আর তার প্রথম চ্যানেল কুকিং স্টুডিও। আলিশবা যাত্রা শুরু করেন ইউটিউবের মাধ্যমে। উম্মি একা হাতে প্রচুর পরিশ্রম করেন। সব কাজ নিজে সামলে নিতেন। তখন দেখা যায় তার পরিশ্রমের ফলে আস্তে আস্তে লাখো মানুষের কাছে একজন জনপ্রিয় রাঁধুনি হয়ে উঠেন।

আলিশবার অনেক স্বপ্ন ছিলো রাঁধুনি নিয়ে একটি স্কুল তৈরী করার। কিন্তু তিনি যখন একটি সন্তান পান তখন আর এ সিদ্ধান্ত থেকে নিজেকে সরিয়ে আনেন। কেননা তিনি তার সন্তান-সংসার নিয়ে তিনি খুব ব্যাস্ত থাকেন।

কিন্তু তার স্বামী জানতেন উম্মি রান্না করতে খুব ভালোবাসে। তাই ২০১৫ সালে স্টুডিও বাই উম্মি চ্যানেল খুলে দেন। তার স্বামী তাকে সব সময় সাহায্য করতেন। এভাবে তিনি দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।

এখন তিনি খুব আনন্দের সাথে রান্না করেন এবং চেষ্টা করেন যারা তার চ্যানেল অনুসরণ করে তারা যেন আনন্দ পায়। তিনি খুব সহজ ভাবে স্টুডিও পর্বে চেষ্টা করেন রান্নার প্রতিটি বিষয় দর্শকরা আনন্দ পায় এবং শিখতে পারে।

উম্মি অনেক পরিশ্রম করে ধীরে ধীরে জানতে পেরেছে এবং শিখতে পেরেছে কিভাবে নতুন নতুন রান্নার রেসেপি তৈরী করতে হয়। তিনি প্রথমে চ্যানেল ওপেন করার পর সাবস্ক্রাইব নিয়ে চিন্তা করতেন না, তিনি চিন্তা করতেন তিনি কিভাবে একজন ভালো রাঁধুনি হয়ে উঠবেন। এবং দর্শককে আনন্দ দিতে পারবেন রান্না দিয়ে।

শুরুতেই উপার্জনের আশা করে তিনি রান্না করতেন না। উপার্জন করতে হলে পরিশ্রম করতে হবে। তাই আলিশবা কঠোর পরিশ্রম করে বারো লাখ মানুষকে আনন্দ দিতে পেরেছেন। বর্তমানে আলিশবার মাসিক আয় প্রায় এক হাজার ডলারের বেশি।

তিনি এখন তার পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতেছে। তিনি চান তার নতুন নতুন রান্না দর্শকদের মাঝে আরো ছড়িয়ে দিতে।

 

আরও পড়ুনঃ

 

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.