মদ বেঁচে দুধ খাই শান্তিতে দিন কাটাই!

মাদক বলতে মদ, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাজা, ইয়াবা/বাবা এসবকেই বুঝায়। আর এসব নেশায় যারা আশক্ত হচ্ছে তারা কিন্তু কেহই বৃদ্ধ বা মধ্য বয়স্ক নয়। তারা হচ্ছে আমাদের তরুণ ও যুব সমাজ।

এক কথায় আমাদের হাল হচ্ছে আমরা চক্রান্তের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছি। এমন হাল অবস্থায় মধ্যে আমাদের বসবাস। দেখুন দেশ থেকে কৌশলে পাচার হচ্ছে মেধা, আর বিদেশ থেকে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থের লোভে কৌশলে আমদানী হচ্ছে নেশা!

একজন মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীকে একদিন জিজ্ঞেস করছিলাম, কেন তারা মাদক বিক্রি করে? তার সহজ উত্তর ছিল। মাদকের চাহিদা রয়েছে বলেই বিক্রি করি। তোমরা এসব খাও নাকি। প্রতি উত্তরে বেচারা বললো আপনি একদিন আমার বাড়ীতে আসেন, দেখবেন আমরা মদ বেঁচে দুধ খাই!

পাল্টা উত্তরে বেচারা মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ী জানালো, আমার বাড়ীতে বড় কয়েকটা গাভী রয়েছে। মাদক বিক্রি করে এগুলো কিনেছি। আর এই গাভীগুলো কয়েক কেজি দুধ দেয়। আমরা সকলেই দুধ খাই।

মাদক বিক্রেতার কথা মনে বেশ আঁচড় কেটেছে। সত্যিই আমাদের যুব সমাজ যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে আর যারা এসব বিক্রি করছে তারা আছে মহা আনন্দে!

দেশে ইদানিং যে হারে মাদকের সয়লাভ হয়েছে। তা দেখে মনের মধ্যে হাহাকার। কার সন্তান কোন সময় বিপথগামী হচ্ছে। প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় কিংবা গ্রাম গঞ্জে যান মাদকের সন্ধান আপনি পাবেনই।

বড়বড় ব্যবসায়ীরা এলাকা ভিত্তিক তাদের এজেন্ট সৃষ্টি করে রেখেছে। কৌশলে পৌছাচ্ছে তাদের হাতে বিভিন্ন ধরণের মাদক। আর তারা এসব তুলে দিচ্ছে তরুণ ও যুবকদের হাতে। ইদানিং স্কুল কলেজের তরুণ তরুণীরা আধুনিকতার ছোয়ায় আকৃষ্ট হয়ে মাদকাশক্ত হয়ে পড়েছেন।

দেশের সীমান্ত এলাকাগুলো দিয়ে আসছে মাদক! এই তথ্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে আমাদের দেশে ইয়াবা/বাবা/চাচা এসব তৈরীর কোন বড় ধরণের কারখানা আছে বলে এখনো কোথাও থেকে তথ্য আসেনি।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য মতে মাদক আসছে ভারত, মিয়ানমার থেকে শুরু করে আশপাশের দেশগুলোতে। সীমান্ত পথে কৌশলে মাদক ব্যবসায়ীরা এসব নিয়ে আসছে।

তথ্য রয়েছে মাদকদ্রব্য ব্যবসা করে দেশের অনেকে আজ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করতে কাজ করছে তা অস্বীকার করা যাবে না। তারপরও বলা যাবে তাদের দায়িত্বে গলদ রয়েছে। দেশে আজ যেসব মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়েছে তাদের কাছ থেকে পাইকারী বিক্রেতাদের আসল তথ্য বের করতে যেন আইনশৃখলা বাহিনীর কোথায় বাঁধা রয়েছে।

ছিচকে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে জেলে দিলে মাদক নির্মূল হবে না। আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে আসল মাদক ব্যবসায়ীদের। যারা বড় বড় চালান দেশে আসছে। তাদের পরিচয় জনসমক্ষে প্রচার করতে হবে।

সীমান্ত এলাকায় ভারত বাংলাদেশের অবস্থান (যেসব ভারতীয়রা কাটাতারের ভেতরে) বাংলাদেশীদের সাথে বসবাস করেন ওদেরকে রাখতে হবে চোঁখে চোঁখে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুধু পুরুষদের নজর রাখলে হবে না। রাখতে হবে মহিলাদের প্রতিও। কেননা মহিলারা এখন ইয়াবা পাচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বলে বিভিন্ন মাধ্যম বলছে।

তথ্য রয়েছে/ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। তাই দেশকে মেধা শুন্য করার পাশাপাশি দেশের তরুণ আর যুবকদের মাদকাশক্ত করে ফেলতে পারলেই পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নিন্দুকেরা অনেকটা সফলতা লাভ করতে পারবে।

তাই অবাধে মাদক পাঁচারে তাদের নেই বাঁধা। কখনো মিডিয়াতেও আসতে দেখা যায় না ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার কিংবা অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক পাঁচার করতে গিয়ে মাদকসহ অমুক দেশের তমুক আটকের খবর!

লেখকঃ হাসানুল হক উজ্জ্বল
আরও পড়ুনঃ
 
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.