টাকা ও কয়েনে আছে ক্ষতিকারক জীবাণু!

আমাদের নিত্যদিনের লেনেদেন হওয়া টাকায় থাকে মারাত্নক জীবাণু। শুধু টাকায় নয়, কয়েনেও ক্ষতিকর জীবাণুর অস্থিত্ব পাওয়া গেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্রী নিশাত তাসনিম প্রায় ছয়মাস টাকা ও কয়েনের উপর গবেষনা করে ক্ষতিকারক ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেয়েছেন।   

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে আসে। গবেষণার জন্য খুলনা শহরের বিভিন্ন পর্যায়ের দোকান ও বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছ টাকা ও কয়েন সংগ্রহ করা হয়। এরপর সংগ্রহকৃত এসব টাকা ও কয়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।  

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মলে থাকা ই-কোলাই জাতীয় ব্যাকটেরিয়া টাকা ও কয়েনে পাওয়া গেছে। ‘ই-কোলাই’ ও ‘ফেকাল কলিফর্ম’ নামের ক্ষতিকর দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়া গবেষনায় পাওয়া যায়। মাংস, মাছ ও মুরগি বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া টাকায় সবচেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়া ও মলের জীবাণু পাওয়া যায়।

গবেষনার জন্য মোট ১৫টি উৎস থেকে টাকার নোট ও কয়েন সংগ্রহ করা হয়। উৎসগুলো হচ্ছে নতুন টাকার নোট, রিকশাচালক, মুদি দোকান, পথখাবারের দোকান, জুস বিক্রেতা, ভিক্ষুক, মুরগির দোকান, সবজির দোকান, মাছ ও মাংস বিক্রেতা, রেস্টুরেন্ট, জুতার দোকান, ফুচকার দোকান, ফল বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষ।

ওই গবেষণায় দেখা গেছে, মাংসের দোকান থেকে সংগ্রহ করা টাকার নোটে সর্বাধিক দুই হাজার ৬৭০টি ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, মাছ বিক্রেতার টাকায় দুই হাজার ৬০০, মুরগি বিক্রেতার টাকায় দুই হাজার ৩০০ ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়।

মাছ ও মুরগি বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া টাকায় দুই হাজার ৮০০ এবং মাংসের দোকানের টাকায় দুই হাজার ৬০০ ফেকাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা টাকায়ও এ দুটি ব্যাকটেরিয়া মিলেছে, তবে সেগুলো এক হাজারের নিচে।

খুবির শিক্ষার্থী নিশাত তাসনিম টাকা ও কয়েন সংগ্রহ করার সময় তিনি একটি ব্যাগ ব্যবহার করেছিলেন, যাতে তার হাত থেকে কোনো ব্যাকটেরিয়া ওই নোট বা কয়েনে না যায়। এরপর তিনি সেগুলো পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের ল্যাবে নিয়ে ‘স্ট্যান্ডার্ড মেথড’ অনুসরণ করে ব্যাকটেরিয়া টেস্ট করেন। পরীক্ষা করে তিনি টাকার নোট ও কয়েনে প্রচুর পরিমাণে ‘ই-কোলাই’ ও ‘ফেকাল কলিফর্ম’ পান।

এই গবেষণার সুপারভাইজার ছিলেন ওই ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী। তিনি বলেন, একই টাকা একজনের হাত ঘুরে আরেকজনের হাতে যাচ্ছে। কিছু টাকায় এত বেশি ‘ই-কোলাই’ ও ‘ফেকাল কলিফর্ম’ ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যে, তা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, টাকাই আমাদের জীবন; টাকা ছাড়া জীবন অচল। অথচ সেই টাকাই আমাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। টাকা ধরে হাত না ধুয়ে খাবার খেয়ে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যেটা আমরা অনেকেই বুঝতে পারছি না।

ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরও বড় গবেষনা হবে বলে অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী জানান, শিগগিরই আরও বড় পরিসরে এ সংক্রান্ত আরেকটি গবেষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। যাতে এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা তৈরি করা যায়। মানুষকে সচেতন করার জন্যই কাজটি করা হবে।

এ ব্যাপারে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এস এম কামাল বলেন, টাকায় বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু থাকে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মাঝে মধ্যে দেখা যায় টাকা মাটিতে, ময়লার মধ্যে কিংবা ড্রেনে পড়ে যায়। সংশ্নিষ্ট ব্যক্তি সেই টাকা শুকিয়ে আবার তা ব্যবহার করেন।

খুবির গবেষণায় টাকার নোট ও কয়েনে যে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে তা মলের মধ্যে থাকে। টাকায় যে ব্যাকটেরিয়া রয়েছে তা পেটে গেলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া প্রস্রাবে সংক্রমণও হতে পারে। সে কারণে টাকা ধরার পর হাত ধুয়ে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  হার্ট সুস্থ রাখতে ডাঃ দেবী শেঠির ১৩টি পরামর্শ
ডায়াবেটিস এর প্রাথমিক জ্ঞান, যা সবার জানা উচিত ।
 
 
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.