চলচ্চিত্রে কাজী নজরুল ইসলাম

বাংলা চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশের সময় থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলা চলচ্চিত্রের উষালগ্নে ১৯৩৩ সালে পায়োনিয়ার ফিল্মস কোম্পানির প্রযোজনায় ‘ ধ্রুব ’ ছবির পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম । ‘ ধ্রুব ’ ছবির যৌথ পরিচালক ছিলেন সতেন্দ্রনাথ দেব।

ছবিতে ধ্রুব চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শিশুশিল্পী প্রবোধ। নিত্যানন্দ ঘটক ছিলেন দেবতা বিষ্ণু বা শ্রী হরির চরিত্রে। ছবিটিতে পারুল বালা, আঙুরবালাসহ অনেকে অভিনয় করেন। এই ছবিতে নারদ চরিত্রে অভিনয় করেন নজরুল স্বয়ং। স্বর্গের দেবর্ষি এবং গায়ক ও বার্তাবাহক হলেন নারদ।

তপস্যারত বালক ধ্রুবর সঙ্গে অরণ্যে দেখা করেন নারদ। তিনিই তাকে দেন বিষ্ণুর কৃপালাভের উপায় এবং সুসংবাদ। সংগীতবহুল এ ছবির গানও লেখেন নজরুল। সিনেমার ১৮টি গানের মধ্যে ১৭টি লেখেন তিনি। নজরুল এককভাবে সিনেমায় ১টি গান এবং শিশুশিল্পী প্রবোধের সঙ্গে দ্বৈতভাবে আরেকটি গান গেয়েছিলেন (সেসময় প্লেব্যাকের চল ছিল না)।

‘ধ্রুব’তে নজরুলের লেখা এবং সুর করা গানগুলো হলো: ‘জাগো ব্যথার ঠাকুর’, ‘অবিরত বাদল বরষিছে’, ‘চমকে চপলা মেঘে মগন গগন’, ‘ধূলার ঠাকুর’,‘ হরিনামের সুধা’, ‘আমি রাজার কুমার’, ‘হে দুঃখহরণ ভক্তের সারণ’, ‘শিশু নটবর নেচে যায়’, ‘মধুর ছন্দে নাচে আনন্দে’, ‘গহন বনে শ্রী হরি নামের’, ‘দাও দেখা দাও দেখা’, ‘ফুটিল মানস মাধবী কুঞ্জে (এই গানটি নজরুল নিজেই গেয়েছিলেন), ‘হৃদিপদ্মে চরণ রাখো’, ‘ফিরে আয় ওরে ফিরে আয়’, ‘নাচো বনমালী’, ‘জয় পীতাম্বর শ্যাম সুন্দর’, ‘কাঁদিসনে আর কাঁদিসনে’।

‘ধ্রুব’ মুক্তি পায় ১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি কলকাতার ক্রাউন হলে। মুক্তির পর গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ‘ধ্রুব’ চলচ্চিত্রটির ব্যপ্তিকাল কত ছিল তা জানা যায়নি। তবে এই চলচ্চিত্রে ১৮টি রিল ব্যবহৃত হয়েছিল যার মধ্যে ২টি বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভসে রয়েছে।

ধুপছায়া – ১৯৩১ । এখানে তিনি বিষ্ণু চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
ধ্রুব- ১৯৩৪ এখানে গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক, ছবির পরিচালক ছিলেন তিনি। এবং নারদ চরিত্রে অভিনয় করেন।

পাতালপুরী- ১৯৩৫। এই চলচিত্রে সংগীত রচনা ও পরিচালনা করেন।
গোরা -১৯৩৮ এখানে কবি নজরুল ছিলেন সংগীত পরিচালক।

বিদ্যাপতি- ১৯৩৮। এখানে কাহিনীকার, গীতিকার, সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন নজরুল।

সাপুড়ে-১৯৩৯। এই ছবির কাহিনীকার ও গীতিকার ছিলেন নজরুল।

নন্দিনী- ১৯৪১। গীতিকার ও সুরকার।

চৌরঙ্গী- ১৯৪২ এখানে নজরুল গীতিকার হিসেবে ছিলেন।চৌরঙ্গী হিন্দিতে নির্মিত হলে সে ছবির জন্য ৭টি হিন্দি গান লেখেন নজরুল।

শহর থেকে দূরে’, ‘দিকশূল’ -১৯৪৩।‘শহর থেকে দূরে’ ছবিটিতে তিনি গীতিকার হিসেবে কাজ করেন।

১৯৪১ সালে শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের পৃষ্ঠপোষকতায় নজরুল ‘বেঙ্গল টাইগার্স পিকচার্স’ নামে একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন আব্বাসউদ্দীন আহমদ, ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু, হুমায়ূন কবীর, এস ওয়াজেদ আলী, মোহাম্মদ মোদাব্বের, আজিজুল ইসলাম, সারওয়ার হোসেন, আজিজুল হক প্রমুখ।

(তথ্যসূত্র: বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও Anupam Hayat অনুপম হায়াত এর ‘চলচ্চিত্র জগতে নজরুল’ গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। 

আরও পড়ুনঃ টেলিফোন এর আবিষ্কারক আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল
জ্যোতির্বিজ্ঞানে গ্রহনযোগ্য মতবাদ দিয়েছিলেন কেপলার
 
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.