গ্রামীণ নারীদের ডিজিটাল বন্ধু তথ্য আপা

স্বাধীনতার ৫০তম বছরে অর্থাৎ ২০২১ সালে বাংলাদেশ তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর এক ডিজিটাল রাষ্ট্রে পরিণত হবে; এমন একটি প্রত্যয় ঘোষণা করে বর্তমান বাংলাদেশ  সরকার। ২০০৮ সালের ১২ই ডিসেম্বর ঘোষণাকৃত এই প্রত্যয় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করেছে। এর মধ্যে ‘তথ্য আপা’ প্রকল্প যেন এক বৃহৎ কর্মসূচী।

‘তথ্য আপা’ প্রকল্প হলো তথ্য ভান্ডার এবং আইপি টিভি সংবলিত একটি ওয়েব পোর্টাল। এটি একটি ভিন্নধর্মী প্রকল্প; যা শুধু নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫ বছর মেয়াদী এ তথ্য আপা প্রকল্প প্রণয়ন করে। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে উক্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জাতীয় মহিলা সংস্থা।

‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যালয় ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশের সকল জেলা উপজেলায় মোট ১৯৭৮ জন কর্মী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মহিলাদের আধুনিক প্রযুক্তির সংস্পর্শে এনে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে দিচ্ছেন এ সকল কর্মীরা।

নারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান  ছাড়াও এ প্রকল্প ই-লার্নিং এর মাধ্যমে প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন দল তৈরি করছে এবং ই-কমার্স সহায়তা প্রধান করছে।

নারী-পুরুষ সমতা রক্ষার জন্য বর্তমানে সারা বাংলাদেশে মোট ৪৯০ টি তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে বিনামূল্যে মহিলাদের তথ্যসেবা প্রধান করে আসছে।

মহিলারা এখন তাদের প্রয়োজনীয় ৬টি বিষয় যেমন-স্বাস্থ্য , শিক্ষা, জেন্ডার, আইনি সহায়তা, ব্যাবসা ও কৃষি বিষয়ের সকল ইনফরমেশন খুবই সহজে এবং কম সময়ে ‘তথ্য ভান্ডার’ থেকে খুঁজে পাচ্ছেন। এ বিশাল তথ্য জগতে শহর-গ্রামের সকল নারীদের সমান প্রবেশাধিকার রয়েছে।

তাছাড়া ,’আইপি টিভির’ মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও উৎসাহ-উদ্দীপনা মূলক ভিডিও এবং অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে; যা দ্বারা নারীকুল অনুপ্রাণিত হবে।

নারীদের সকল সমস্যার সমাধান প্রদান করে তাদেরকে সচেতন ও আত্ননির্ভরশীল করার উদ্দেশ্যে ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের ২য় পর্যায়ে ‘উঠান বৈঠক’এর আয়োজন করা হয়েছে। এই পর্যায়ে সরকারীভাবে প্রায় ১ কোটি গ্রামীণ নারীকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

২য় এ পর্যায়ে ফ্রি যে সকল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সেগুলো হলো ফ্যাশন ডিজাইন,ব্লক বাটিক, বিউটিফিকেশন, টেইলারি, হস্তশিল্প, ফ্রন্টডেস্ক ম্যানেজমেন্ট, মোটর ড্রাইভিং, মোবাইল ও কম্পিউটার সার্ভিসিং ও রিপেয়ারিং, মাশরুম চাষ, মৌ চাষ ইত্যাদি।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ইতোমধ্যে যে সকল প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে তন্মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট প্রকল্প হলো “তথ্য আপা” প্রকল্প। এ প্রকল্প সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে নারী বেকারত্ব যেমন দূর হবে তেমনি দেশ ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

লেখকঃ Samia Rahman 
আরও পড়ুনঃ
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.