খ্রিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠান সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

 

খ্রিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠান সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা ভালোবাসা দিবস। অথচ এটি বর্তমানে সকল ধর্মের মধ্যেই বিদ্যমান। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলেই এই দিনটি উদযাপন করে থাকেন। কিন্তু অনেকেই আদৌ জানেন না এই দিনটির তাৎপর্য কী? কেন এই দিনটি পালন করা হয়? ২৬৯ সালের চিকিৎসা ও ধর্ম প্রচার কে কেন্দ্র করে ইতালির রোম নগরীর একজন পাদ্রী চিকিৎসককে মৃত্যু দন্ড দান করা হয়। উনার নাম ছিলো সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স।  তার জনপ্রিয়তার কারনে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালন করা হয়।

রোম নগরীতে যখন খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ, তখন তাঁর উপর ধর্ম প্রচারের অভিযোগ আসে। এই অভিযোগে তৎকালীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস চিকিৎসক কে কারাগারে বন্দী করেন। বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর একজন অন্ধ মেয়ের চিকিৎসা করেন। এবং মেয়েটি আস্তে আস্তে চিকিৎসকের চিকিৎসায় সুস্থ হতে থাকেন। আর এতে চিকিৎসকের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। এই জনপ্রিয়তায় রাজা ক্রাডিয়াস ক্ষিপ্ত হন। এবং শেষ পর্যন্ত ১৪ ফেব্রুয়ারী তাঁর মৃত্যু দন্ড দেন।

তাঁর-ই স্মরণে পোপ সেন্ট জেলাসিউও প্রথম জুলিয়াস  ৪৯৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন্স দিবস ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করা হতো। এই দিনটি উপলক্ষে এক জন আরেক জনের সাথে কুশল বিনিময় করেন ফুল, চকোলেট, এবং শুভেচ্ছা কার্ড ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেসেজ আদান-প্রদান এর মাধমে। এছাড়াও বিভিন্ন পার্কে  অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েন সকল ধর্মের লোক। এক সময় এই দিবসের চেতনা নষ্ট হয়ে যায় অসামাজিক কার্যকলাপে।

ফ্রান্সের সরকার প্রথমে ১৭৭৬ সালে এই ভ্যালেন্টাইন্স ডে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। একসময় ইংল্যান্ডের ক্ষমতাসীন পিউরিটানরা ও প্রশাসনিক ভাবে এই ভ্যালেন্টাইন্স দিবস নিষিদ্ধ করেন। যেহেতু এই দিবসটি ইসলামের বিরুদ্ধে সেহেতু পাকিস্থানের আদালত ও তা নিষিদ্ধ করে দেয় ২০১৭ সালে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরে ও এখনো অনেম মুসলিম দেশে পালিত হয়ে থাকে এই ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা ভালোবাসা দিবসট।

যদিও এ দিনটি নিষিদ্ধ তবুও সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষ এ দিনটাকে ঝাঁকজমকভাবে পালন করে থাকে। ব্যাক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগে পালিত হয় এ দিনটি।

লেখকঃ আবিদা সুলতানা

আরো পড়ুনঃ

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.