লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান , প্রাকৃতিক  জীববৈচিত্র্যে ভরপুর আমাদের এই বাংলাদেশ। সুন্দর্যে ভরা আমদের এই প্রকৃতি। যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজের সমারহ দেখা যায়। সেই প্রকৃতির একটি বিশেষ অংশ হচ্ছে আমাদের দেশের বনাঞ্চল।

আমদের দেশের বেশিরভাগ জায়গা বন দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং এই সব বনে নানা প্রজাতির উদ্ভিদ জন্মে। এই সব উদ্ভিদ নানা প্রকার হয়ে থাকে এবং তা আমদের জীবনে নানা ভাবে সাহায্য করে। আমরা আজকে এমনই একটি বন নিয়ে আলোচনা করব যেটি আমাদের দেশের অন্যতম  একটি বনাঞ্চল,আর সেটি হচ্ছে লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।

লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যান টি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ উপজেলার বনের রেঞ্জের আওতাধীন ২,৭৪০ হেক্টর আয়তনের পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত একটি বন ছিল এটি। এর জন্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এর পূর্ববর্তী নাম ছিল পশ্চিম ভানুগাছ বন।

লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের চিরহরিৎ বনের একটি নমুনা। লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের ৭ টি বন্যপ্রাণী ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে অন্যতম। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানায় অবস্থিত ১২৫০ হেক্টর আয়তনের এই বনটি জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। বাংলাদেশ এই বনকে ১৯৯৭ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষনা করে।

বনের ভিতরের গাছের দৃশ্য

এই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এর ভিতরে বিচিত্র ধরনের বন্যপ্রানী ও গাছপালা দেখা যায়। বন্য প্রানীর মধ্যে মেছ বাঘ বেশি দেখা যায়।আরো প্রাণী চোখে পরে যেমন- বানর, হরিণ, হাতি, হনুমান ইত্যাদি। এখানে অধিক পরিমাণে চিরহরিৎ গাছ রয়েছে। এই বনের আয়তন প্রায় ১,২৫০ হেক্টর।

এটি অনেক পুরানো একটি বন, ব্রিটিশ সরকার ১৯২৫ সালে এখানে সর্বপ্রথম বৃক্ষায়ন শুরু করে। আর এই সব গাছ পালা বেড়ে উঠার কারনে বনাঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।বনের অস্তিত্ব এবং জীববৈচিত্র্যে রক্ষার জন্য এই বনটির ১,২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৭৪ বন্যপ্রাণী আইন সংরক্ষন অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যানের মর্যাদা দেওয়া হয়।

এই বনে রয়েছে ৪৬০ প্রজাতির নানা ধরনের বন্যপ্রাণী আর গাছপালা। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ছয় প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণী, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রানী এবং ২৪৬ প্রজাতির পাখি রয়েছে এই বনে। সুন্দরবনের পরেই এই লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রধান আকর্ষণ হলো বিলুপ্তপ্রায় উল্লুক। বনের ভিতরে গাছের উচু ডালে এরা পরিবার নিয়ে বসবাস করে থাকে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এ ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গর্জন, সেগুন, গামাল,জামরুল, বেলজিয়াম, চাপালিস, লোহাকাঠ,জাম,দুমুর,কড়ই,তুন ,মুলিবাঁশ ইত্যাদি। এছারাও নানা প্রকার সরীসৃপ প্রানির মধ্যে লক্ষ্য করা যায় অজগর সহ নানা প্রকার সরীসৃপ প্রাণী। এই বনের পাহাড়ি কচ্ছপও এই বনের উল্লেখযোগ্য সরীসৃপ প্রাণী।

পাখিদের মধ্যে আবার নানা জাত লক্ষ্য করা যায়, যেমন সবুজঘুঘু,বনমুরোগ,হরিয়াল, তুর্কিবাজ,কালো মাথার টিয়া,লেজ কাটা টিয়া,কালোবাজ, হীরামন, কালো মাতা বুলবুল, ধুমকল, প্যাঁছা, ফিঙ্গে,সবুজ কোকিল,পাঙ্গা,কেশরাজ,মাছরাঙ্গা ইত্যাদি।

এই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানটি সাধারণত উচু নিচু টিলায় ভরপুর আর ঐ টিলার মাজখান দিয়ে চলে গেছে সারি সারি ছোট পথ। পর্যটকরা এখানে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এ আসে একমাত্র এই বনটির সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য।

বেশ প্রান ভরে এই বনের সৌন্দর্যকে নিজের করে নেয় যারাই এখানে আসেন। একবার এই লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে যে আসে পরে আবার কেন বারবার আসতে ইচ্ছা করবে।কেননা বাংলাদেশের প্রধান বন গুলোর মধ্যে আটি একটি।

সিলেটের বাইরে যারা তাকেন তাদেরকে ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেন ধরে আসতে হবে। তবে এই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের জন্য আসার সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম হবে ট্রেন। ট্রেনে আসলে বিমানবন্দর বা কমলাপুর রেল ষ্টেশন থেকে ট্রেন ধরতে হইবে।

পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস,কালনী এক্সপ্রেস এবং উপবন ট্রেনে করে আসতে হবে। কুলাউরা এবং সায়েস্তাগঞ্জ এর মধ্যবর্তী ষ্টেশন শ্রীমঙ্গলে নেমে গেলে সহজে যাওয়া যাবে। আর আমরা যদি বাসে আসি তবে আমাদের ঢাকা থেকে বিয়ানীবাজার আর বাস করে আসতে হবে। এনা, শ্যামলী এবং রূপসী বাংলা পরিবহন করে আমাদের আসতে হবে।

আর যদি সিলেট হয়ে আমরা আসতে চাই তাহলে আমাদের ফকিরাপুল বা ফার্মগেট থেকে বাসে উটতে হবে এবং সিলেটের বাইপাস সড়ক ব্যবহার করতে হবে। সিলেট আসার পর আমাদের ট্যাক্সি বা কোন প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া নিয়ে যেতে হবে,সেখানে যেতে সিলেট থেকে প্রায় ২/৩ ঘণ্টা লাগবে।

যারাই এখানে আসবে তারা ভালো কিছু সময় কাটাবে। এই লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যানটি জনপ্রিয়তা দিনদিন বাড়ছে। আর সরকার এটিকে মানুষের জন্য আরো উন্নত করেছে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.