ম্যাজিক প্যারাডাইস ও ডাইনো পার্ক সমাচার

ফ্যামিলি, বন্ধুবান্ধব নিয়ে একদিনে ঘুরে আসার আদর্শ স্থান হতে পারে কুমিল্লা শহর। এক দিনেই চাইলে আপনি ম্যাজিক প্যারাডাইস,ডাইনো পার্ক (যেটা কিনা ডাইনোসর পার্ক নামেও পরিচিত) , শাল বন বিহার,বৌদ্ধ মন্দির, বার্ড ঘুরে আসতে পারেন।

শুরুতে বলা যাক ম্যাজিক প্যারাডাইস নিয়ে। একই সাথে ওয়াটার ল্যান্ড, বিভিন্ন রাইড এবং ডাইনোসর দেখতে পাবেন এইখানে।

তিন ধরনের টিকেট আছে। শুধু এন্ট্রি এবং ডাইনোসর পার্ক সহ টিকেট ২০০ টাকা। তিনটা রাইড ওয়াটার ল্যান্ড সহ টিকেট ৫০০ টাকা এবং ওয়াটার ল্যান্ড রাইট ছাড়া টিকেট ৪০০ টাকা। ফ্রি রাইডে বাম্পার কার আর রেলগাড়ি যুক্ত নেই। আলাদা টিকেট করা লাগবে চড়তে।

বলে রাখা ভালো রাইড তেমন আহমরি কিছু না। এক নগরদোলা ঘুরতে ৫/৭ মিনিট লাগে,যা খুবই বিরক্তিকর। একদম স্লো,এটায় কোন স্পিড নেই। গাড়ি গুলোও বিকট শব্দে হুট করে থেমে যায়,স্লো থামার পরিবর্তে।

তবে ডাইনোসর জোন টা সুন্দর। ডাইনোসর গুলো যেমন নড়তে পাড়ে,ঘাড় মাথা,লেজ নাড়ানোর পাশাপাশি গর্জন ও দিতে পারে।মুলত ডাইনোসর এর নিচে সাউন্ড বক্স থেকেই আওয়াজ আসে।

ওয়াটার ল্যান্ডটিতে তিনটা ওয়াটার পুল আছে। যদিও সব গুলোই পানি হাটু সমান হওয়ায় একটু বিরক্তিই লাগছে। তিনটা পুলের মাঝে একটা ডিজে এবং ওয়েব পুল। দ্বিতীয়টা স্লাইডিং পুল এবং ফ্যামিলি পুল একটা।

যদিও সব গুলোই পানি হাটু সমান হওয়ায় একটু বিরক্তিই লাগছে।হয়তো ছোট বাচ্চাদের কথা চিন্তা করেই পানির উচ্চতা এমন। তবে আরেকটু বেশি পানি থাকলে ভাল হতো। দুপুরের পর ফ্যামিলি পুল এবং স্লাইড পুল ওফ করে দেওয়া হয় আর তখন ডিজে পুলেই ভিড়তে হবে সবাই কে। তাই পুলের মজা উসল করতে হলে অবশ্যই দুপুরের আগে যাওয়া বেটার।

জামা-কাপড় রাখার জন্য একশো টাকা দিয়ে লকার ভাড়া করতে হয় এবং সাথে ১০০ টাকা আমানত দিতে হয়। অর্থাৎ ২০০ টাকা দিলে পরে চাবি ফেরত দিয়ে ১০০ টাকা ফেরত পাওয়া যায় আর টিউব ভাড়া ২০০ টাকা। যা সত্যই দৃষ্টিকটু লাগছে। লকার ভাড়া আর টিউব ভাড়া এতো বেশি হওয়া ঠিক হয়নি।

আপনি যদি পুরো পুরি কৃত্রিমতা থেকে একটু প্রাকৃতিক পরিবেশ চান তাহলে ডাইনো পার্ক যেটা আবার ডাইনোসর পার্ক নামেও পরিচিত সেটায় যেতে পারেন। মুলত ডাইনো পার্কের আইডিয়াকেই কাজে লাগিয়ে ম্যাজিক প্যারাডাইস বানানো হয় পরবর্তিতে। ম্যাজিক প্যারাডাইস থেকে মাত্র ৫/৮ মিনিট দূরে এটা। চাইলে হেটেও যেতে পারেন কিংবা টমটম ভারা করতে পারেন।

ডাইনো পার্কেও রাইট এবং ডাইনোসর দেখতে পাবেন যদিও এইখানে ওয়াটার ল্যান্ড নেই তবে ছোট একটা পানির ফোয়ারা আছে। আর আছে উপরে রেস্টুরেন্ট। যার ছাদে বসে প্রিয়সী কে নিয়ে ধূমায়িত কফি পানের অনুভুতিই আলাদা।

প্রচুর পরিমানে গাছ এবং বসার স্থান থাকায় এবং গাছ-পালার ফাক দিয়ে ডাইনোসর এর মাথা বের করে দেওয়ার দৃশ্য সাথে ডাইনোসর এর গর্জন কিছুখনের জন্য হলেও আপনাকে আদিম যুগে ফিরিয়ে নিবে। হাটাহাটির জন্য এটা বেটার স্থান।

তবে রেস্টুরেন্ট এ খাবার আসতে একটু লেট হয়। তাই অর্ডার দিয়ে ঘুরতে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এতে সময় বাজবে।

আপনি যদি আরো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চান তাহলে যেতে পারেন কুমিল্লা বার্ডে। যেটা মুলত সরকারি সংরক্ষিত এলাকা। তাই দর্শনার্থী ডুকতে পারে না রেফারেন্স ছাড়া।

তবে রেফারেন্স না পেলে আপনি চাইলে শালবনবিহার, ইটাখোলা মুড়া, বৌদ্ধ মন্দির ঘুরে আসতে পারেন। ওইগুলো সব ম্যাজিক প্যারাডাইস এবং ডাইনো পার্ক থেকে আসার পথেই পাবেন।

আর যদি বার্ডে ডুকতে পারেন তবে গেস্ট হাউজ এবং রিসোর্ট এরিয়া ঘুরতে পারেন। পড়ন্ত বিকালে বনের রাস্থায় হাটার অনুভুতিটা অন্যরকম। চাইলে চড়তে পারেন কালজয়ী বাংলা ছবি দিপু নাম্বার টু এর সেই বিখ্যাত পানির টাংকি বা টাওয়ারে। যেটায় চড়তে গিয়েই দুষ্ট তারেকের সাথে শান্তশিষ্ট দিপুর বন্ধুত্ব হয়।

পরিশেষ্ট -কুমিল্লা গেলে আবশ্যই মাতৃভান্ডারের রসমালাই খাওয়ার ট্রাই করবেন। যদিও পুরো কুমিল্লা শহরে শত শত মাতৃভান্ডার নামক মিষ্টির দোকান আছে।

তবে অরিজিনাল পেতে প্রকৃত স্বাদ পেতে হলে আপনাকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মনোহরপুর যেতে হবে।

মাত্ভৃন্ডারের আসল দোকানটি খুঁজে নিতে হবে আপনাকে। এখানকার স্থানীয়রা কিন্তু এই দোকান ঠিকই চেনেন। তাই তাদের সহায়তা নিতে পারেন।

সতর্কতাঃ ঘুরতে গেলে ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলবেন না। নির্ধারিত স্থানে ফেলুন।

সুইমিংপুলে স্লাইড এ চড়তে সতর্ক হোন। একজন চড়ার পরের আরেকজন উঠুন।আমাদের সময় এক মেয়ে স্লাইডে থেকে পুলে পরার সময় অন্য একজনের মাথার উপর পরে এবং মাথা ফেটে যায়। তাই কারো গায়ে পড়তাছেন কিনা দেখন। স্লাইডে নামার সময় নড়াচড়া কম করুন। আমার বন্ধু সাইডের পাশে হাত দিয়ে হাত কেটে পেলে।

পুলে প্রসাব করা থেকে বিরত থাকুন।যত চাপই আসুক কষ্ট করে পুল থেকে উঠে পাশের ওয়াশরুম ব্যবহার করুন।

বার্ডে গাছপালা র পাতা ছিঁড়া থেকে বিরত থাকুন মনে রাখবেন তাদের ও জীবন আছে।

গাড়িভাড়া বা অন্য কিছুতে আগে দাম জেনে নিন, প্রয়োজনে দামাদামি করে নিন আগে।পরে ঝগড়া বা তর্কে জড়াবেন না। মনে রাখবেন ওরাও পর্যটনের একটা অংশ।

লেখকঃ Noman AL Tonmoy
আরও পড়ুনঃ বসন্তের শিমুল বাগান
এই গরমে ঘুরে আসুন উতমাছড়া
 
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.