ভ্রমণপিয়াসু মানুষের কাছে শীতে সিলেট ভ্রমণ

ভ্রমণ বিলাসী মানুষের কাছে শীতকাল যেন আশীর্বাদস্বরূপ। তারা সারাবছরই বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যায়। তবে কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, মিটিমিটি রোদ আর ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য শীতকালই ঘুরাঘুরির জন্য আদর্শ ও উপযুক্ত সময়। ভ্রমন মানুষের জ্ঞানভান্ডারকে সমৃদ্ধ করে এবং মানুষকে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে।

যারা সারাবছর কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময় পায়না, তাদের কাছেও শীতকালটা বেড়ানোর জন্য পছন্দনীয় সময়। কারণ, শীতকালে প্রায় সকল বাচ্চাদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথে শীতকালীন ছুটিও শুরু হয়। আর এই ছুটিটাকে অনেকে নানান আকর্ষণীয় স্থান দর্শনের মাধ্যমে কাটিয়ে দিতে চায়।

ভ্রমণ এর জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষস্থানে থাকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত স্থানগুলো। বৃহত্তর সিলেট বিভাগের মধ্যে এরকম প্রায় ২০টির মতো ভ্রমন করার জায়গা রয়েছে।

কিছু কিছু দর্শণীয় স্থান আছে যেগুলোতে বার বার যেতেও বিরক্তি লাগেনা, এমন সব স্থানের মধ্যে সিলেট সদরের ইকোপার্ক, গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ,পান্তুমাই ঝর্ণা বা ফটোছড়ি এবং জলপাথরের ভূমি বিছনাকান্দি সৌন্দর্যনন্দিত।

এছাড়াও জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল এবং কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়ার মনকাড়া প্রকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। যারা পাহাড়ী উঁচু-নিচু পথ পছন্দ করেন তারা সিলেট জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ‘ভোলাগঞ্জে’ ভ্রমণ করতে পারেন। এ জায়গার পাহাড়ি দৃশ্য ও পাথর খোয়াড়ীর দৃশ্যপট মনমুগ্ধকর। এছাড়া সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট ঊপজেলার ‘রাতারগুল’ অভয়ারণ্য অন্যতম একটি জলাবন।

যারা পানি-ঝর্ণা পছন্দ করে তাদের জন্য ভ্রমণ এর উপযুক্ত স্থান হচ্ছে মৌলভীবাজার জেলার জলপ্রপাতগুলো। এসকল জলপ্রপাতের মধ্যে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় সবার প্রথমে নাম উঠে আসে ‘মাধবকুন্ড জলপ্রপাত’। যেটি কিনা বাংলাদেশের বৃহত্তম জল্প্রপাত নামে পরিচিত।

এছাড়াও মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ‘হাম হাম জল্প্রপাত’ ও ‘মাধবপুর লেক’ এবং একই জেলার ‘পরিকুন্ড জলপ্রপাত’ও দৃষ্টিনন্দনীয়। জলপ্রপাত ছাড়াও মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ‘বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট’ ও ‘সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা’ পর্যটন স্থান হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছ।

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার ‘টাঙ্গুয়ার হাওড়’ও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে হলে চলে যেতে হবে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলায়। টঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমনপ্রেমিকদের জন্য অন্যতম একটি স্থান।

এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভুমি। টাঙ্গুয়ার হাওরের মোট আয়তন ৬৯১২ একর। বর্ষাকালে এর আয়তন বেড়ে ২০,০০০ একর পর্যন্ত হয়ে থাকে। টাঙ্গুয়ার হাওরে ১৪০ প্রজাতির মাছ আছে। শীতকালে হাওরে ২৫০ প্রজাতির অতীতি পাখির বিচরন ঘটে।

যারা যান্ত্রিক শহরীয় চাকচিক্যময় পরিবেশে জীবনযাপন করে, তারা এমন কোন জায়গা খোঁজে; যেখানে থাকবেনা কোন কৃত্রিমরূপ, থাকবে শুধু প্রাকৃতিক মায়াজাল। এমন এক বিশাল সবুজ বনবেষ্টিত অনিন্দ্যসুন্দর নিসর্গপ্রকল্প হলো মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ‘লাউয়াছড়া বন’।

বাংলাদেশের সকল জাতীয় উদ্যান আর অভয়ারণ্যের মধ্যে অন্যতম এটি। এছাড়াও যারা অতিথিপাখি পছন্দ করেন তাদের জন্য সুন্দরতম একটি পর্যটনশিল্প হচ্ছে ‘হাকালুকি হাওর’। সারাবছর পানি থাকে এমন ২৩৮টি বিল সমৃদ্ধ হাকালুকি হাওরটি সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে অবস্থিত। যখন অতিথি পাখিরা আসে, তখন এ জায়গাটি অজস্র পাখির কলরবে মুখরিত থাকে।

যান্ত্রিক জীবন আর কোলাহলপূর্ণ জীবন থেকে কেনা অবসর নিতে চায়। ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষগুলো মাঝেমাঝে সবকিছুর বাইরে নিজেকে এক আলাদা জগতে নিয়ে যেতে চায়। আর এ চাওয়াটা পরিপূর্ণ করার একমাত্র মোক্ষম সময় হচ্ছে শীতকাল।

লেখকঃ Samia Rahman 
আরও পড়ুনঃ
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.