নারায়ণতলা বর্ডার মার্কেট , ভ্রমণের সাথে কেনাকাটার আনন্দ

বাংলাদেশের উত্তর পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ সদর থেকে মাত্র ১২ কিলো দূরে নারায়ণতলা বর্ডার অবস্থিত।সুনামগঞ্জ সদর থানা অন্তর্গত প্রাকৃতিক নৈসর্গের এই লীলাভুমি আপনাকে একই সাথে ভ্রমণ ও কেনাকাটার আনন্দ দেবে।সীমান্তের ওপারে পাহাড়, এপারে ছোপ ছোপ জলে ঘেরা মিহি বালুময় চর আর মাঝখানে বয়ে চলা চলতি নদী।পাহাড় থেকে নেমে আসা অসংখ্য ছড়ার (ন্যচারাল ড্রেইন) শীতল জল বারো মাস বয়ে যায়।

Dolura

নদীর কূল ঘেঁষে সীমান্তের এপারে ওপারে প্রতি মঙ্গলবার বসে একই হাট,বর্ডার মার্কেট। কাটাতারহীন সংরক্ষিত ছোট্ট এই বাজারে পসরা সাজিয়ে বসে । মাতৃতান্ত্রিক গারো উপজাতি সম্প্রদায়ের ভারতীয় নারী দোকানী আর জৈনতা ও বাঙ্গালী পুরুষতান্ত্রিক বাংলাদেশী পুরুষ দোকানী।উভয় দেশের পশ্চাদপদ প্রত্যন্ত অঞ্চলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এ হাট শুল্ক খাতে স্ব স্ব রাস্ত্রীয় ভর্তুকি সুবিধার অন্তর্ভুক্ত বিধায় এখানে উভয়দেশীয় পন্য কম দামে পাওয়া যায়।

বাজারের এ প্রান্তে রয়েছে মুক্তি যুদ্ধের অন্যন্য সৃতি বিজড়িত দৃষ্টিনন্দন ডলুরা সৃতিসৌধ ও স্বজন খুজে না পাওয়া শত শহীদের কবরস্থান।যুদ্ধকালীন সময়ে পাশ্ববর্তী অঞ্চলসমূহের শুধু অজ্ঞাত পরিচিত শহীদের কবর দেওয়া হয়। আজো সেখান কারো কারো পরচয় মিলে।আমি প্রথমবার নারায়ণতলায় যাই এই ডলুরা কবরস্থানে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আমার চাচাত ভাই মোহাম্মদ নুরু মিয়ার কবরের সন্ধানে।সাথে ছিলেন শহীদ জননী। ২৫ বছর পরে নিজের শহীদ সন্তানের কবর খুজে পাওয়ার আনন্দ দেখার সে স্মৃতি  আজো আমাকে আবেগ তাড়িত করে।

কিভাবে যাবো নারায়ণতলা 

মহাখালী থেকে এনা , সায়দাবাদ থেকে শ্যামলী , হানিফ ও ইউনিক পরিবহনের সুনামগঞ্জ- ঢাকা নাইটকোচ রাত ১০ টা থেকে ১১ঃ৩০ পর্যন্ত ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়। ভাড়া শ্রেনীভেদে ৪৭০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা ।

নামবেন সুনামগঞ্জ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড।বাসস্ট্যান্ড থেকে সি এন জি বা অটোরিকশায় ধারাগাও সুরমা নদীর ঘাটে। ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা।ফেরি পার হলেই নদীর ওপারে হালুয়ারঘাট।হালুয়ারঘাট থেকে মোটর সাইকেল /সিএনজি তে নারায়ণতলা।জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা।

কোথায় খাবো

সুনামগঞ্জ শহরে সকালের নাস্তার জন্য পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের পাশেই নূর হোটেল বিখ্যাত।নানা পদের ভর্তা ও ডাল দিয়ে গরম সাদা ভাত প্রসিদ্ধ ও সস্তা।দুপুর ও রাতের জন্য কাজীর হাট মোরে কুটুমবাড়ি বেষ্ট অপশন।

মঙ্গলবারের নারায়ণতলা ডলুরা বর্ডার মার্কেটের মিষ্টি অসাধারণ।ভারতীয় গারো উপজাতি নারীদের তৈরি পাঁচ টাকা পিস ও ৭০ টাকা কেজি এই মিষ্টি আপনার মিষ্টি খাওয়ার অভিজ্ঞতার শীর্ষ স্থান দখল করে নেবে।

কোথায় থাকবো

নারায়ণতলায় থাকার ব্যবস্থা নাই।সুনামগঞ্জ জেলা শহর হলেও তেমন একটা উন্নত না। থাকার জন্য সুনামগঞ্জে দু একটি সাধারণ মানের হোটেল এবং গুটি কয়েক বোডিং রয়েছে।জনপ্রতি ৩০০/৪০০ টাকা খরচ করে আপনি শহরের সেরা মানের হোটেলে থাকতে পারবেন।

খরচপাতি

সুনামগঞ্জে থাকা খাওয়ার খরচ তুলনামূলক কম। নারায়ণতলায় খাবার ও অন্যন্য জিনিসের দাম সুনামগঞ্জের তুলনায় সস্তা। বর্ডার মার্কেটে আপনি ভারতীয় শাড়ি , চুড়ি, প্রসাধনী থেকে শুরু করে বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন সব ভারতীয় দ্রব্য পাবেন এবং প্রায় অর্ধেক দামে।

সতর্কতা

শুকনো মৌসুমে নারায়ণতলা চলতি নদীর তীরে যাওয়ার জন্য আপনাকে কিছুটা পথ হাটতে হবে।মিহি বালুময় মাত্র ৩০০-৪০০ মিটারের এই পথ আপনাকে ক্লান্ত করে দিতে পারে।বর্ডার বাজারে ভারতীয় পন্য কেনা ও বেচার জন্য ভোক্তা থেকে কোন কর/ শুল্ক আদায়ের সিস্টেম নেই, কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বহিরাগত ক্রেতার কাছ থেকে অন্যয্য শুল্ক কর আদায় করার চেস্টা করে। ভারতীয় রূপি ও বাংলদেশী টাকার বিনিময়হার সরকার নির্ধারিত হারে চেয়ে সামান্য বেশী হয়।

Facebook Comments

faisal hawree

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে জন্ম। কাঁচ-পাকা চুল, দাঁড়িসমেত ইঁচড়ে পাকা যুবক।পেশাদার ট্র্যাভেল ব্লগার।ঘুরে বেড়াই ও লিখি।শখের বশে সাহিত্য চর্চা করি।সদালাপী,অলস ও স্বপ্নবাজ। জীবনের উদ্যেশ্য খুজে পাই নি।মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত।যতক্ষণ শ্বাস চলে ততক্ষণ সুবাহানাল্লাহ

faisal hawree has 14 posts and counting. See all posts by faisal hawree

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.