খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান – প্রকৃতির আবডালে প্রমোদ উদ্যান

বাংলাদেশে বেড়ানোর মতো অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা রয়েছে। এমন ও অনেক স্থান আছে যেখানে গেলে ফিরে আসতে মন চাইবে না। ইচ্ছে হবে সেখানে থেকে যাই। ঠিক এইরকম একটি স্থান হচ্ছে সিলেটের খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান। সেখানে গেলে দেখতে পারবেন আল্লাহর সৃষ্টির এক অপরূপ সৌন্দর্য।

সিলেট শহর থেকে জাফলং তামাবিল সড়কের বাঁ দিকে গেলেই খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানে। এই উদ্যানের চা বাগান আর ঘন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে জঙ্গলের ঘনত্ব দেখে যে কোন মানুষের ভয় লাগতে পারে। তাই একা এই উদ্যানে বেশী দূর না যাওয়াই ভালো।

বাংলাদেশের যে কয়টি সংরক্ষিত বনাঞ্চল আছে তার মধ্যে খাদিমনগর নবীনতম। ২০০৬ সালে এটি জাতীয় উদ্যান বা ন্যাশনাল পার্কের মর্যাদা দেওয়া হয়। এই বনের আয়তন প্রায় ৬৭৮ হেক্টর। ১৯৫৭ সালে এই বনকে রিজার্ভ ফরেস্ট ঘোষণা করা হয়েছিল।

খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ছয়টি চা বাগান। বাগানগুলো হলো: ছড়াগাঙ্গ, হাবিবনগর, বরজান, কালাগুল, গুলনি ও খাদিমনগর। জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই উদ্যানটির সংরক্ষণের দায়িত্বে আছে ইউএসএইড।

নিত্যদিনের কাজের ফাঁকে একটি দিন যদি ঘুরে আসেন সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে, তাহলে আপনি মনের ও চোখের প্রশান্তি পাবেন। পাহাড়ের পথে পথে সবুজ চা বাগান আর গাছগাছালি সত্যিই মনো মুগ্ধকর দৃশ্য। নয়নাভিরাম খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের অবারিত সবুজ আপনার ভ্রমণকে আরো আনন্দময় করে তুলবে।

     

         খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান

পর্যটন সুবিধা :

১. ট্রেইল এ্যাকটিভিটি : 
খাদিমনগর ন্যাশনাল পার্ক (Khadimnagar National Park) এ হাঁটার জন্য ৪৫ মিনিট ও দুই ঘন্টার দুটো ট্রেইল আছে। বনবিভাগের বিট অফিসের সামনে ট্রেইল দুটোর মানচিত্র দেয়া আছে, এ ছাড়া স্থানীয় কাউকে গাইড হিসাবে ও সাথে নেয়া যেতে পারে।

যদি ঘন জঙ্গলে ট্রেকিং করতে চান তাহলে সাথে গাইড নেয়া ভালো কারন পথ হারাবার সম্ভাবনা আছে।এক ঘন্টার গাইড খরচ ১৫০ টাকা। ঘন জঙ্গলে বাহারি গাছপালা ও পশুপাখিদের কলরবে ট্রেকিং করতে ভালই লাগে।

২ ঘন্টার ট্রেইলে হাটতে হাটতে হাটতে আপনি বোমা ঘর দেখতে পারবেন, যেটাতে দ্বিতীয বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমা রাখা হত বলে কথিত আছে।

২. জিপ লাইন : 
বিট কর্মকর্তার অফিসের সামনেই আছে জিপ লাইন। আরোহন ফি ১০০ টাকা। জিপ লাইনে ওঠার আগে আপনাকে নিরাপত্তা অবলম্বন করতে হবে।

৩. ট্রি এ্যাকটিভিটিজ: 
ট্রি একটিভিটি করতে হলে কেডস টাইপ জুতা পরা ভালো। এখানে ফ্যামিলি নিয়ে আসতে পারনে। প্রত্যেকদিন অনেকেই পরিবার নিয়ে আসে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা আসেন। একদম নিরাপদ জায়গা আর স্থানীয় মানুষরা ও খুব অআন্তরিক। তবে হ্যা,হার্ট দুর্ভল বা হার্টের রুগি এমন কেউ ট্রি এক্টিভিটি করতে যাবেন না কারন এটি করতে আপনাকে যথেষ্ট সাহসী হতে হবে । সেইফটি হিসেবে বেল্ট, হেলমেট এবং ক্লিপ দ্বারা লাইনের সাথে যুক্ত থাকে শরীর।

ট্রি এক্টিভিটি ১০০ টাকা।  

৪. বাই সাইকেল রাইড:
বাই সাইকেল নিয়েও বন ঘোরা যাবে, সেই ব্যবস্থাও এখানে আছে।

৫. তাবুতে রাত্রি যাপন :
যদি কেও রাত্রি যাপন করতে চান তাহলে তাবু ভাড়া করতে পারেন। বিট অফিসারের ভাষ্যমতো, তাদের কাছে মোট ২৮ জনের তাবু করে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে আগে থেকে যোগাযোগ করতে হবে তাদের সাথে।

রেইনফরেস্টের সামনে দিয়ে উত্তর দিকে যে রাস্তা চলে গেছে, সে দিক দিয়ে এগিয়ে গেলে এয়ারপোর্ট-হরিপুর সড়কে উঠা যায়, সেখান থেকে আবার রাতারগুল সোয়াম্পফরেস্টে ও সহজেই যাওয়া সম্ভব। কোন পর্যটক যদি একদিনের জন্য সিলেট ঘুরতে চান সে ক্ষেত্রে এই পথটি ব্যবহার করে চা বাগান, রেইনফরেস্ট, সোয়ামফরেস্ট দেখে যেতে পারেন।

যেভাবে যাবেন খাদিমনগর :

ট্রেনে বা বাসে করে চলে যান সিলেট শহরে। তারপর সেখান থেকে সিএনজি রিজার্ভ করে যেতে পারেন বনে। তবে ফিরতি পথে সিএনজি পাবেন না, তাই যেই করে যাবেন সেটা না ছেড়ে রেখে দিতে পারেন। আর এজন্য চালকের নাম্বার রাখাটা জরুরী।

এই পথের অধিকাংশ কাঁচা ও ইট বিছানো হলে ও গাড়ী নিয়ে যাওয়া যায় তবে বৃষ্টি থাকলে সে ক্ষেত্রে সিএনজি নিয়ে যাওয়া ভালো। খাদিম চৌমুহনীতে ভাড়ার সিএনজি পাওয়া যায়।

বনে এন্ট্রি ফি ৩০ টাকা। অন্যান্য খরচ ও বিট কর্মকতার সাথে যোগাযোগের নাম্বার দেয়া আছে ছবিতে।
পরিশেষে অনুরোধ, পরিবেশের প্রতি খেয়াল রাখবেন বেড়াতে গেলে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.