জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী সিলেটের “হাছন রাজা” চিত্রনায়ক হেলাল খান

হেলাল খান একজন শ্রেষ্ঠ বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা। দুই-দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী সিলেটের “হাছন রাজা” হেলাল খান, ২৫ নভেম্বর বিয়ানীবাজার, সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন।

২০০২ সালে হেলাল খান, চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত”হাছন রাজা” চলচ্চিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। চলচ্চিত্রটি জাতীয় পুরস্কার সহ আর ছয়টি পুরস্কার লাভ করে এবং দুটি বিভাগে বাচসাস পুরস্কার লাভ করে। ছবিটি মূলত মরমী কবি, বাউল শিল্পী হাছন রাজার জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত। কোকা-কোলা নিবেদিত এই ছবিটি প্রযোজনা করেছেন অভিনেতা হেলাল খান। ছবির নাম ভূমিকায় “হাছন রাজা” অভিনয় করেছেন হেলাল খান এবং বিনোদিনী চরিত্রে সামি কায়ছার । এছাড়াও আছেন রেবেকা মনি, শিমলা, মুক্তি, ববিতা,, শানু,কাজী, প্রমুখ।

হাছন রাজা চলচ্চিত্রঃ

পরিচালকঃ চাষী নজরুল ইসলাম
রচয়িতাঃমমতাজউদ্দীন আহমেদ
প্রযোজকঃ হেলাল খান
শ্রেষ্ঠাংশেঃ হেলাল খান, শমী কাওয়ছারসিমলা, মুক্তি, ববিতা
সুরকারঃ সুয়েজ স্যাম
চিত্রগ্রাহকঃ শহীদুল্লাহ দুলাল
সম্পাদকঃ আতিকুর রহমান মল্লিক
পরিবেশকঃ হাকস প্রডাকশন
দৈর্ঘ্যঃ ১৫৭ মিনিট
মুক্তিঃ ১৭ আগস্ট,২০০২
দেশঃ বাংলাদেশ
ভাষাঃ বাংলা

 

চলচ্চিত্রঃ

১. “প্রিয় তুমি” প্রকাশ ১৯৯৫ সালে।
২. “বাজিগর” প্রকাশ ১৯৯৬ সালে।
৩. “সাগরিকা” প্রকাশ ১৯৯৬ সালে।
৪. “কুখ্যাত খুনী” প্রকাশ ১৯৯৯ সালে।
৫. “অন্যায়ের শাস্তি” প্রকাশ ২০০০ সালে।
৬. “আশা আমার আশা” প্রকাশ ২০০০ সালে।
৭. “ওরা সাহসী” প্রকাশ ২০০২ সালে।
৮. “জুয়ারী” প্রকাশ ২০০২ সালে।
৯. “রক্তে আমার আগুন” প্রকাশ ২০০৪ সালে।
১০. “বিশাল হাঙ্গামা” প্রকাশ ২০০৫ সালে।
১১. “ধ্রুবতারা” প্রকাশ ২০০৬ সালে।
১২. “বিদেশীনী” প্রকাশ ২০০৭ সালে।
১৩. “মুক্তি” প্রকাশ ২০১১ সালে।
১৪. “সেই তুমি অনামিকা” প্রকাশ ২০১২ সালে।
১৫. “কিলার” প্রকাশ ১৯৯৯ সালে।

হেলাল খান এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। তার প্রযোজিত চলচ্চিত্রের মধ্যে বাজিগর, সাগরিকা ও হাসন রাজা অন্যতম।

হাফিজ উদ্দিন পরিচালিত ‘প্রিয় তুমি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় হেলাল খানের। ১৯৯৫ সালে ”প্রিয় তুমি” চলচ্চিত্র প্রকাশিত হয়। তিনি তার কর্মজীবনে ৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

হেলাল খান “বাজিগর” সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আগমন করেন। এই ছবিতে তিনি নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। এই ছবির পরিচালক ছিলেন তিনি নিজেই ।

৯০ দশকের তিনি “সাগরিকা”চলচ্চিত্র
অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন বাদল খন্দকার। অভিনয়ে- আমিন খান, ঋতুপর্ণা, সাদেক বাচ্চু, দিলদার ও হেলাল খান ।

পুরস্কারসমূহঃ-
(১)
সালঃ ২০০২
পুরস্কারঃ জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার।
বিভাগঃ সেরা প্রযোজক।
চলচ্চিত্রঃ হাছন রাজা।
ফলাফলঃ বিজয়ী।

(২)
সালঃ ২০০৩
পুরস্কারঃ জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার।
বিভাগঃ সেরা খল অভিনেতা।
চলচ্চিত্রঃ জুয়ারী।
ফলাফলঃ বিজয়ী।

(3)
হাসন রাজা চলচ্চিত্রের জন্য ২০০৪ সালে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার।

ব্যক্তিগত তথ্যঃ-

জন্মঃ ২৫ নভেম্বর
বিয়ানীবাজার বাজার, সিলেট।

বাসস্থানঃ ঢাকা, বাংলাদেশ।

জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী।

পেশাঃ অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, চলচ্চিত্র প্রযোজক।

কার্যকালঃ ১৯৯৪-বর্তমান।

উল্লেখযোগ্য কাজঃ জুয়ারি, হাসন রাজা।

পুরস্কারঃ ২বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

হেলাল খান অভিনেতা হিসাবে যেমন আলোচিত তেমন সমালোচিত। তিনি নায়ক হয়েও অনেক সময় খলনায়কের ভুমিকায় অভিনয় করেছেন। তিনি বলেন, “নায়ক হোক বা খলনায়ক হোক ক্যামেরার সামনে গেলে আমার কাছে মনে হয় সবই সমান”আমি অনেক চলচ্চিত্রে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছি এবং অনেক পুরস্কার পেয়েছি।
তিনি বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্ত আছেন চলচ্চিত্রের সঙ্গে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় ব্যাবসা পরিচালনা করছেন। এলাকায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্ত-ঘাট নির্মাণ করেছেন তিনি।

হেলাল খান বর্তমানে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিলেট জেলার একজন সদস্য হিসাবে রাজনীতিতে যোগদান করেন। তিনি বলেন,’জনগন আমাকে ভালবাসে, পছন্দ করে তাই তাদের জন্য আমি কিছু করতে চাই।

লেখকঃ হামিদুর রহমান

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.