সাহিত্যে নোবেল পেলেন ওলগা তোকারচুক ও পিটার হ্যান্ডকে

২০১৯ সাহিত্যে নোবেল পাচ্ছেন অস্ট্রিয়ান সাহিত্যিক পিটার হান্ডকে। একইসঙ্গে ২০১৮ সালে সাহিত্য বিভাগের নোবেল পুরস্কার প্রাপকের নামও ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি।

চিকিৎসাশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা এবং রসায়নের পর এবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হল। ১০ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রয়াল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সের পক্ষ থেকে ২০১৮ এবং ২০১৯-এ সাহিত্যে নোবেল প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালে সাহিত্যে নোবেল পাচ্ছেন অস্ট্রিয়ার সাহিত্যিক পিটার হান্ডকে।

শুধু এই বছরেরই নয়, এদিন সুইডিশ অ্যাকাডেমির সচিব ম্যাটস মালম স্টকহলম থেকে প্রেসবিবৃতি দিয়ে ২০১৮ সালের নোবেল পুরস্কার প্রাপকের নামও ঘোষণা করলেন। পোলান্ডের সাহিত্যিক ওলগা তোকারসুক ওই বছরের পুরস্কার প্রাপক।

৫৭ বছর বয়েসি লেখিকা তোকারসুক সাহিত্যের জগতে পা রাখেন কবিতার হাত ধরে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সিটিজ অফ মিররস।’ ১৯৯৩ সালে তোকারসুকের প্রথম উপন্যাস ‘দ্য জার্নি অব দ্য বুক পিপল’ প্রকাশিত হয়। সতেরো শতকের প্রেক্ষাপটে লেখা এই উপন্যাসের আখ্যান এক প্রেমিক দম্পতির একটি হারিয়ে যাওয়া বই অন্বেষণ নিয়ে গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালে বুকারও পেয়েছিলেন তোকারসুক। এ বছর সুইডিশ নোবেল কমিটি ওই একই বছরের নোবেল প্রাপক হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে বলে, তোকারসুক এমন একজন আখ্যানকার যিনি কল্পনা দিয়েই দেশকালের সীমা ভেঙে দেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের নোবেল বিজয়ী ওলগা তোকারচুককে সম্মানিত করা হয়েছে “জীবনের ঘেরাটোপ পেরিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর যে সাবলীল কল্পনা এবং দুর্নিবার আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে” সেই ভাবনাকে মাথায় রেখেই।

২০১৯ সালের নোবেলজয়ী লেখক পিটার হ্যান্ডকের জন্ম সাবেক সোভিয়েত অধিকৃত বার্লিনে, ১৯৪২ সালে। ১৯৬৫ সালে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেন, যোগ দেন আভা গার্দ আন্দোলনে। শুরু হয় ছবির চিত্রনাট্য লেখা। ১৯৭৮ সালে তাঁর নির্দেশনায় তৈরি ছবি ‘দ্য লেফট হ্যান্ডেড ওম্যান’ সে বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হয়। যুগস্লাভিয়া যুদ্ধের সমালোচনা করে তাঁর লেখা সারা পৃথিবীতে সমালোচনার ঝড় তোলে। যুদ্ধের কারণ ও ফল বিষয়ে বারবার পশ্চিমী দুনিয়াকে বিঁধে এসেছেন পিটার। বিতর্ক তাঁর চিরসঙ্গী হয়ে থেকেছে।

এইদিকে ২০১৯ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী পিটার হান্ডকে প্রসঙ্গে অ্যাকাডেমির তরফে জানানো হয়, “মানুষের অভিজ্ঞতার পরিধি এবং সুনির্দিষ্ট চেহারা অসামান্য ভাষাগত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলতে পারায় তাঁকে এই সম্মানে সম্মানিত করা হল।”

সাহিত্যে এক বছরে দুইজন প্রাপকের নাম ঘোষণার ঘটনা গত ৭৫ বছরে ঘটেনি। গতবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি। নোবেল কমিটির বিবৃতিতে জানা যায়, পুরস্কারের বিচারকমণ্ডলীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক জনের বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ, সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম ফাঁস ও কয়েকটি অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠায় অ্যাকাডেমির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তাই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে না। বিজয়ীর নামও ঘোষণা করা হবে না। তখনই জানানো হয়েছিল, পরের বছর এক সঙ্গে দু’জন প্রাপকের নাম ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য , ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে চলা #Me Too প্রচারাভিযানের সময় ফরাসি-সুইডিশ চিত্রগ্রাহক এবং সুইডেনের শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব জিন ক্লড আরনু-র বিরুদ্ধে কুড়ি বছর ধরে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগে সোচ্চার হয়েছিলেন ১৮ জন মহিলা। অন্যদিকে এই জিন ক্লড আরনু বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলেন প্রভাবশালী সুইডিশ লেখিকা ক্যাটেরিনা ফ্রোস্তেনসনের সঙ্গে, যিনি এই সুইডিশ অ্যাকাডেমির সদস্য বহু বছর ধরে। তবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা থেকে বিরত থাকা এই প্রথমবার নয়। কোনও সাহিত্যের প্রার্থীকেই পুরস্কারের যোগ্য মনে না হওয়ার কারণে ১৯১৫, ১৯১৯, ১৯২৫, ১৯২৬, ১৯২৭, ১৯৩৬ এবং ১৯৪৯ সালেও কোনও নাম ঘোষণা করা হয়নি।

লেখক: প্রশান্ত কর্মকার।
আরও পড়ুনঃ ‘রিচার্জেবল বিশ্ব’ গড়ার পথ দেখিয়ে রসায়নে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী
 
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.