পদার্থ বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল বিজয়ী উইলিয়াম রন্টজেন

পদার্থ বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল বিজয়ী উইলিয়াম রন্টজেন। ১৯০১ সালে তাকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। উইলিয়াম রন্টজেন এর পুরো নাম Wilhelm Conrad Rontgen (ভিলহেল্ম কনরাড রন্টগেন)। তিনি ১৮৪৫ সালের ২৭ মার্চ জার্মানের প্রাশিয়ার শহরে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবার নাম Friedrich Conrad Röntgen  এবং মাতার নাম Charlotte Constanze Frowein।

জার্মান অধিবাসী এই বিজ্ঞানী চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম আবিষ্কার এক্স-রে রশ্মির আবিষ্কারক হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ১৮৯৫ সাল থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি এক্স-রে রশ্মি নিয়ে অনেক গবেষনা করেন এবং তিনটি এক্সরে পেপার প্রকাশিত করেন। তার আবিষ্কৃত এক্সরে রশ্মি কে অনেকসময় রন্টজেন রশ্মিও বলা হতো।

উইলিয়াম রন্টজেন যখন এক্স-রে রশ্মি  আবিষ্কার করেন, তখন এর প্রকৃতি-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তিনি সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা খুঁজে পাননি। তাই তিনি এই রশ্মির নাম দেন অজানা রশ্মি বা এক্স-রে রশ্মি। কিন্তু পরীক্ষা নিরীক্ষার উপর নির্ভর করে তিনি তার স্ত্রী আনা বার্থা রন্টগেন  এর উপর এর প্রয়োগ করেন।

তার বয়স যখন তিন তখন তার পরিবার হল্যান্ড এ স্থানান্তরিত হয়। নেদারল্যান্ড এর একটি টেকনিক্যাল স্কুল থেকে তার শিক্ষাজীবনের শুরু হয়। ১৮৪৫ সালে তাকে স্কুল থেকে বহিস্কার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি জুরীখ এ অবস্থিত ফেডারেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষা দেন। তিনি জুরীখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৮৬৯ সালে পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী অর্জন করেন।

কিন্তু তার সৃজনশীল কাজ আর প্রতিভার বলে কোন প্রাতিষ্টানিক ডিপ্লোমা ছাড়াই নেদারল্যান্ড এর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে  পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘রন্টগেন স্ট্রাসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়’  এ ১৮৭৪ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়াও তিনি আরো তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর হিসেবে কাজ করেন। কর্মজীবনের শেষ সময়গুলো কাটান তিনি মিউনিক ইউনিভার্সিটিতে।

শিক্ষকতার পাশাপাশি বিজ্ঞানের আলোকে অনেক বিষয় নিয়ে গবেষণা করতেন তিনি। বিজ্ঞানে অসাধারণ অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার ছাড়াও তিনি  ১৯০০ সালে বার্নার্ড মেডেল, ১৯৮৬ সালে রামফোর্ড মেডেল, ১৮৯৭ সালে এলিয়েট ক্রেসন মেডেল সহ আরো অনেক মেডেল পান। “ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব পিওর অ্যান্ড কেমিস্ট্রি”  তার নামানুসারে ২০০৪ সালে ।

লেখকঃ সামিয়া

আরো পড়ুনঃ

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.