দেহ ও চক্ষুদানকারী ভাষাবিদ ও খ্যাতনামা মনীষী ড.আহমদ শরীফ

ভাষাবিদ ও খ্যাতনামা মনীষী ড.আহমদ শরীফ বিংশ শতাব্দীর এক মহান ব্যক্তিত্ব। তাঁর জন্ম ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী চট্রগ্রামের পটিয়া উপজেলার সূচক্রদন্ডী গ্রামে। আহমদ শরীফ তার মৃত্যুর পর চক্ষু ও দেহদানের জন্য ১৯৯৫ সালে একটি উইলে লিখেন – “চক্ষু শ্রেষ্ঠ প্রত্যঙ্গ, আর রক্ত হচ্ছে প্রাণ প্রতীক, কাজেই গোটা অঙ্গ কবরের কীটের খাদ্য হওয়ার চেয়ে মানুষের কাজে লাগানোটাই বাঞ্চনীয়”।

তাই তার এই উইল অনুযায়ী ২৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৯ সালে মৃত্যুর পর দাফন না করে দেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সেখানেই শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ব্যাবহার করে আহমদ শরীফ এর মৃত দেহ।

আব্দুল আজিজ ও মিরাজ খাতুন ছিলেন তাঁর বাবা-মা। বাবা ছিলেন চট্রগ্রাম সরকারি কলিজিয়েট স্কুলের একজন কেরানী। এই শিক্ষাহীন অন্ধকার মুসলিম পরিবারে শিক্ষার আলো এসেছিলো ঊনিশ শতকে। সাহিত্য বিশারদ, বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি আব্দুল করিম ছিলেন আহমদ শরীফ এর চাচা। যিনি এন্ট্রাস পাস করা চট্টগ্রামের প্রথম মুসলিম। আব্দুল করিমের পরিবারের কাছেই বড় হন তিনি।     

১৯৩৮ সালে আহমদ শরীফ পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পরিক্ষা দেন। ম্যাট্রিক এ তিনি প্রথম বিভাগে উত্তীর্ন হন। তারপর ইন্টারমিডিয়েট পরিক্ষায় উত্তীর্ন হন ১৯৪০ সালে চট্রগ্রাম কলেজ থেকে। তিনি একই কলেজ থেকে ১৯৪২ সালে স্নাতক পাস করেন কৃতিত্বের সাথে। পরবর্তীতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে স্নাতক পাস করেন। এখানে তিনি ২য় বিভাগে ৪র্থ  স্থান অর্জন  করেছিলেন আহমদ শরীফ।

আহমদ শরীফ এর কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৪৪ সালে দুর্নীতি দমন বিভাগে। তখন তাঁর বেতন ছিল ২৫০ টাকা। নীতিগত কারনের জন্য তিনি এই চাকরি বেশি দিন করতে পারেন নি। তিনি শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন ১৯৪৫ সালে। আগস্ট মাস থেকেই শরীফ লাকসামের নওয়াব ফয়জুন্নেসা কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। এখানে বেতন ছিলো ১১৫ টাকা। ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফয়জুন্নেসা কলেজে অধ্যাপনার পর আসেন ফেনি ডিগ্রি কলেজে। এখানে ১৯৪৮ তকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন ১৯৫০ সালে। সেখানে শর্ত দিয়ে চাকরি করেন তিনি। শর্তটি ছিল “তিনি আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদের বিশাল পুঁথি সম্ভার ঐ বিশ্ববিদ্যালয় কে দিয়ে দিবেন”। এতে তাকে কোন টাকা দেওয়া হবে না৷ বরং এই পুঁথি তিনিই দেখা শোনা করবেন। পরবর্তিটে, ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত সেখানেই তিনি বাংলা বিভাগের অস্থায়ী  লেকচারার হিসেবে ছিলেন। স্থায়ী ভাবে নিযুক্ত হন ১৯৫৭ সালে।

এছাড়াও আহমদ শরীফ ১৯৬২ সালে খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে সাংবাদিকতা করেন। ১৯৬৯ সালে শরীফ কে বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এবং সর্বশেষ ১৯৮৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে । দীর্ঘ ৩৬ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে নিযুক্ত ছিলেন তিনি।

তিনি অধ্যাপনার পাশাপাশি শতাদিক গ্রন্থ ও রচনা করেছিলেন। প্রথম গ্রন্থটি হচ্ছে লায়লী-মজনু। এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।

লেখকঃ আবিদা সুলতানা

আরো পড়ুনঃ

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.