প্রবাসী বাঙ্গালীদের কষ্টেভরা একাকীত্বের অজানা জীবন-যাপন

উন্নত জীবন যাপনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমানো বাঙ্গালীদের আমরা প্রবাসী বলে থাকি। স্বদেশ জীবন আর প্রবাস জীবনের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান। ভাষাগত, অবস্থানগত এবং বৈধতার সমস্যার মতো হাজারও সমস্যা অতিক্রম করে একজন বাঙ্গালীকে হতে হয় প্রবাসী।

কোন নির্দিষ্ট এক স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসীজীবন বেছে নেওয়া বাঙ্গালীরা পরদেশে কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করে। আর আমরা দেশে বসে তাদের কষ্টে উপার্জিত টাকা দিয়ে বিলাসী জীবন যাপন করি। আমরা কি একবারও চিন্তা করি, যাদের টাকা দিয়ে আমরা এ সুখী জীবন যাপন করছি তারা কিভাবে আছে?

আমাদের বাবা বা বড় ভাইয়েরা লন্ডন, আমেরিকা বা ফ্রান্সের মতো বড় দেশে বসবাস করছে। আর তাই আমরা সারাদিন নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াই, দামী দামী রেস্টুরেন্টে বন্ধুদেরকে নিয়ে খাওয়া দাওয়া করি। কিন্তু, একবারও কি চিন্তা করি আমাদের প্রবাসী বাব বা ভাইয়েরা সময়মত খাওয়া দাওয়া করছে কিনা?

প্রবাসী মানেই পরিবারের সব দায়িত্ব যেন তারই। নিজের অসুস্থতা, শারীরিক ও মানসিক কষ্ট সব ভুলে গিয়ে চিন্তা করতে হয় দেশে থাকা নিজের পরিবারকে নিয়ে। নিজের সকল স্বাদ আহ্লাদকে ভুলে গিয়ে কাজ করতে হয় দৈনিক ১৫ থেকে ১৬ ঘন্টা।

প্রতিবছরই হাজার হাজার বাঙ্গালীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় ভিনদেশে পাড়ি জমায়। প্রায় একযুগ ধরে ইউরোপে পড়ে আছেন এমন অনেক প্রবাসী; যাদের কোন বৈধ কাগজ নেই। কখন যে কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়বে , এমন হতাশা আর দুঃশ্চিন্তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এসকল প্রবাসীরা।

আমরা মনে করি, যারা ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা আছেন তারা খুব সুখে আছে। বিলাসী জীবন অতিবাহিত করছে।অথচ তাদের উপর কাজের এত চাপ থাকে যে, অসুস্থতায় ও যেতে হয় কাজে। মাস শেষে পরিবারকে টাকা দিতে হবে বলে কাজ থেকে ফাঁকি দিতে পারেনা তারা।

 আমাদের যাদের প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা নাই, তারা প্রবাসীদের একাকিত্ব, কষ্ট আর নীরব অশ্রুগুলো বুঝতে পারিনা। কারন, প্রবাসীরা দক্ষ অভিনেতার মত এমন অভিনয় করেন যেন তারা খুব ভাল আছে। এ জন্য মাঝে মাঝে দামী রেস্টুরেন্টে গেলে রঙ্গিন ছবি তুলেন।

 সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ডের এসকল ছবি ফেসবুক, টুইটার নামক নানা যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। প্রবাসীদের এমন ঝাঁকজমকপূর্ণ ছবি দেখে আমরা ভেবে নেই তারা কতই না সুখে আছে।

যারা সংসার ছাড়া একা বিদেশে বসবাস করেন, তারা দুঃখ পায়না। তাদের অর্থের অভাব নেই। আছে শুধু একাকিত্বের কষ্ট। তাদের কষ্টেভরা অনুভূতিগুলো দেশে বসবাসকারী বন্ধু-বান্ধব আর আত্নীয়-স্বজনরা উপলব্ধি করতে পারেনা।

Samia Rahman
আরও পড়ুনঃ 
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.