কলকাতার পথে প্রান্তরে একজন বাংলাদেশী

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা বিচিত্র। প্রবাসীদের চোখে মাতৃভূমি ও প্রবাস জীবনের
ছোট ছোট মিল অমিল গুলোও ধরা দেয় ।ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা কলকাতা প্রবাসী ডা. সাইফুল ইসলাম আমাদের জানাচ্ছেন দুই বাংলার মিল অমিল।

প্রায় ৩ সপ্তাহের মত হতে চলল, দেশের বাহিরে আছি৷ পরিবার ছেড়ে আছি। কেমন যে কষ্ঠ হচ্ছে বলার ভাষা নেই৷ যারা বছরের পর বছর দেশের বাহিরে আছি, তাদের যে কেমন লাগে! এখানে না আসলে বুঝতাম না৷

বেশি দূর নয়, প্রতিবেশি দেশ ভারত। প্রতিদিন কলকাতার গ্রিস পার্ক থেকে দমদম, দমদম থেকে গ্রিস পার্ক। হাট আর মেট্রোতে উঠ আবার হাট৷ জীবনটা তামা তামা হয়ে যাচ্ছে হাঁটতে হাঁটতে। কলকাতার লোকজন শুধু হাঁটে আর হাঁটে, মেট্রো আর ট্রেনে চড়ে৷

যাই হোক এখানকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু না লিখলে না হয়৷ যেহেতু ফেইসবুক আছে, ভাল না লাগলেও কেউ না কেউ পরবে। তাই ভাবছি কিছু লিখব। আজ প্রথম পার্ট।

প্রথম প্রথম মনে হত বাংলাদেশ কত উন্নত হয়ে গেছে৷ আর কলকাতা শত বছর আগের পুরনো বিল্ডিং নিয়ে পরে আছে।

বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে৷ সত্যি এগিয়েছে৷ তবে কিছু বিষয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে৷

এখানকার নারীরা অনেক এগিয়ে৷ নারীরা তরকারি বেচতেছে, ফাস্ট ফুডের দোকান দিচ্ছে৷ রাস্তায় রাস্তায় মেয়েদের অসংখ্য দোকান। আমি যেই প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করি, সেখানকার প্রধান একজন পিএইচডি করা নারী, উপমহাদেশের স্বনাম ধন্য ফিজিওথেরাপিস্ট ড. শবনম আগারওয়াল, এমপিটি এর কো-অর্ডিনেটর ডা. তনুশ্রী , বিপিটি এর কো-অর্ডিনেটর ড. গ্রাগরি। তিনজনের দুজনই পিএইসডি করা ফিজিও৷ একটা প্রতিষ্ঠানের প্রথম তিনজনই নারী৷ এটাই দ্বারা বুঝায় এখানে নারীদের কি ধরনের ক্ষমতায়ন৷ এবং তারা কাজের ব্যাপারেও অত্যান্ত সিরিয়াস এবং যত্নবান৷

আমার কাছে মনে হয় এটা তাদের অনেক বড় অর্জন৷ কোন মেয়ে কি ড্রেস পরল, কেউ কারো দিকে তাকিয়েও দেখে না৷ প্রতিদিন মেট্রোতে অনেক কষ্ঠ করে দাড়াতে হয়, একেবারে চাপাচাপি করে। কোনদিন একটা টাকা বা মানিব্যাগও চুরি হয় না৷ রাত বিরাত সবসময়ই নিরাপদ। যতদূর দেখছি৷

মেট্রোতে একটা বগিতে ৪ ভাগের ১ ভাগ মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত। ১ ভাগ সিনিয়র নাগরিক এবং প্রতিবন্ধিদের জন্য৷ বাকি ২ ভাগ ছেলে মেয়ে ভাগা ভাগি করে বসবে৷ বাসে ট্রেনে সব জায়গায় মেয়েদের অগ্রাধিকার। বলতে পারেন,, ছেলেরা দুধভাত৷

কলকাতা শহরে গাছপালা নেই বললেই চলে৷ গিঞ্জির শহর অনেকটা। গিরিশ পার্ক এলাকায় গ্রিস পার্ক নামে ছোট একটা পার্কও আছে। সেদিন গেলাম গ্রিস পার্কে অনেক বাংলাদেশী পার্কে যেমন ছেলে মেয়েরা বসে গল্প করে , ঠিক তেমনিভাবেই দেখলাম। তবে অশ্লীল বা অশোভন কিছু নয়৷

তবে বয়স্কদের জন্য ভাল জায়গা পৃথিবীর কোথাও নেই৷ এটা এখানেও টের পেলাম৷ কলকাতার মেট্রো বা ট্রেনে বয়স্ক লোকজন উঠানামা করা অত্যান্ত কঠিন বিষয়৷

যাই হোক কলকাতার মেয়েদের নিয়ে আরো কিছু বলার ছিল, বিভিন্ন কারনে বলতে পারছিনা। বুঝতেই পারছেন, বেশি বললে এমপিটি পাশ মিলবে না৷

তবে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি মেয়েরাই এগিয়ে থাকবে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.