পড়বো বই, গড়বো দেশ – অঙ্গীকারে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস

“পড়বো বই,  গড়বো দেশ

বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।”

-এই অঙ্গীকারে এ বছর তৃতীয়বারের মত জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশে। এর আগে দ্বিতীয়বার এ দিবস পালিত হয়েছিলো ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী; যার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো ‘গ্রন্থাগারে বই পড়ি,  আলোকিত মানুষ গড়ি’। আর, ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো এ দিবস পালিত হয়েছিলো ‘বই পড়ি, স্বদেশ গড়ি’- স্লোগানকে সামনে রেখে।

গত তিন বছর ধরে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ৫ ফেব্রুয়ারিতে ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’ পালন করে আসছে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর এই দিনে গ্রন্থাগার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এক বৈঠকে। পরবর্তী বছর থেকে তা কার্যকর ও হয়।

ফেব্রুয়ারি মাস আসলেই একুশে বইমেলার নানান আয়োজন শুরু হয়ে যায়। তাছাড়া, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপিত হয় ১৯৫৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। এসব দিক বিবেচনায় ৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’  হিসেবে যুক্তিযুক্ত।

দেশীয় গ্রন্থাগারগুলো টিকে থাকলে সভ্যতাও টিকে ত্থাকবে। গ্রন্থাগার দিবসকে ঘিরে জেলায় জেলায় সরকারি ও ব্যাক্তি উদ্যোগে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বই পড়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করা হয়।

বইয়ের প্রতি মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়ানো তথা বই পড়ার অভ্যাস সৃষ্টিই যেন জাতীয় গ্রন্থাগার দিবসের উদ্দ্যেশ্য। বাংলাদেশ সরকারের এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হলো এ দিবস। বাংলাদেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও মানুষের মধ্যে পড়ার চর্চা রাখার এক নিরলস চেষ্টায় বাংলাদেশ সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে শিক্ষার সম্প্রসারণের পাশাপাশি এক সুশীল পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

শুধু তাই নয় বই পড়ার পাঠকের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দ্যেশ্যে “ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি উন্নয়ন প্রকল্প” গ্রহণ করা হয়েছিলো। এটি বাস্তবায়নের জন্য সারাদেশে পাঠক সেবা দেয়া হচ্ছে ভ্রাম্যমান গাড়ির মাধ্যমে। তাছাড়া,  গণগগ্রন্থাগার অধিদপ্তর প্রায় চারটি প্রকল্পে এখনো কাজ করতেছে; যাতে খরচ হবে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা এবং কাজগুলো শেষ হবে ২০২১ সালের মধ্যে।

বেসরকারি ভাবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সহায়তা করেছে অনেক। লাইব্রেরি ছিল না এমন ২ হাজার বিদ্যালয়ে লাইব্রেরি প্রতিষ্টা করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। গণকেন্দ্র ও ক্লাবের আয়োজন করে লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ১৪ লাখেরও বেশী পাঠক-পাঠিকা তৈরি করেছে ‘ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি’।

সরকারী উদ্যোগে জনসাধারণের উপকারে প্রতিষ্টিত গ্রন্থাগারই জাতীয় গ্রন্থাগার। যদিও এটি সরকারী, তবে এটি গণগ্রন্থাগার নয়। এখান থেকে সকল জণসাধারণ বই ধার নিতে পারে না। জাতীয়  গ্রন্থাগারে দেশের সকল দুষ্প্রাপ্য বইগুলোর দেখা মিলে। শুধু দেশ নয় বিদেশীয় সাহিত্য সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করে থাকে জাতীয় গ্রন্থাগার।

 আগামী প্রজন্মকে সুশীল ও সুন্দর সমাজ উপহার দিতে চাইলে সরকারের পাশাপাশি আমাদেরকেও লাইব্রেরি প্রতিষ্টায় সহায়তা করতে হবে। বেশী বেশী করে বই পড়তে হবে। অন্যকে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

লেখকঃ সামিয়া

আরো পড়ুনঃ

বাংলার কবি- কবি সানাউল হক
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নারীদলের নাম ঘোষণাঃ বিসিবি
প্রিমিয়াম ব্যাংক থেকে ৩ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা আত্নসাৎ

 

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.