প্রথম নারী ভাষা শহিদ সিলেটি মেয়ে কমলা ভট্টাচার্জ

প্রথম নারী ভাষা শহিদ সিলেটি মেয়ে কমলা ভট্টাচার্জ। ১৬ বছরের কিশোরী  কমলা ভট্রাচার্জ বাংলা ভাষার জন্য নিজের সব স্বপ্নকে ফেলে রেখে ভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়ে শহিদ হন। বাবা মায়ের সাত সন্তানের মধ্যে কমলা ছিলেন পঞ্চম। আর বোনদের মধ্যে ছিলেন তৃতীয়। ১৯৪৫ সালে অবিভক্ত বাংলার সিলেটের আসামে জন্ম গ্রহণ করেন কমলা ভট্রাচার্জ।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হওয়ার পর কমলা এবং তার পরিবার পাকিস্থানেই ছিলেন। পাকিস্তানে থাকলে ও ১৯৫০ সালে যখন হিন্দুদের গনহত্যা ও নির্যাতন শুরু হয়, তখন বাধ্য হয়ে আবাসস্থল ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন অবিভক্ত বাংলার বৃহত্তর সিলেটের শিলচরে। শিলচর পাবলিক স্কুল রোডের পাশে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তারা।

কমলার শিক্ষা জীবন শুরু হয় শিলচরের ছোটলেখা শেট ইনস্টিটিউটে। বই কিনে পড়ার ক্ষমতা না থাকায় তিনি বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে বই ধার করে খাতায় নোট করে পড়তেন। কমলার বড় বোনের নাম বেণু। তিনি নার্সিং এ চাকরি পাওয়ায় প্রশিক্ষণের জন্য চলে যান শিমুল গুড়ি। আর মেঝো বোন ‘প্রতিভা’ ছিলেন পেশায় এক জন শিক্ষিকা। প্রতিভার উপর নির্ভরশীল ছিল তার পুরো পরিবার।

১৯৬১ সালে ম্যাট্রিক পরিক্ষায় অংশ নেন কমলা। তার স্বপ্ন ছিলো স্নাতক স্তর পর্যন্ত লেখাপড়া করার। ম্যাট্রিক পরিক্ষার পর টাইপ রাইটিং শিখার ও ইচ্ছে ছিলো তার। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি। ম্যাট্রিক পরিক্ষা শেষ করেন ১৮ মে। তার ঠিকপরের দিন ১৯ মে শিলচরে একটি পিকেটিং এর ডাক পড়ে।

পিকেটিং এর দাবী ছিলো মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার। ঐ দিন সকালে গোসল করে মা-বোনকে কোনরকম বুঝিয়ে কমলা পিকেটিং এ অংশ নেন। কমলার সাথে যোগ দিয়েছিলেন তার ছোট বোন মঙ্গলা ও ছোট ভাই এবং বড় বোনের ছেলে বাপ্পা।

দুপুর বেলায় পিকেটিং এ উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের উপর শুরু হয় হামলা। নির্মম ভাবে পেটাতে থাকে লাঠি ও বন্ধুক দিয়ে। ঐ সময় সবাই যে যেদিকে পারে নিজেকে বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যান।

মঙ্গলা পালানোর সময় পুলিশের লাঠির আগাতে লুটে পড়ে যান মাটিতে। চিৎকার করে ডাকতে থাকেন কমলাকে। মঙ্গলাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন কমলা। তখনি পুলিশের গুলি কমলার চোখ বেদ করে মাথাকে চুরমার করে দেয়। গুলিবিদ্ধ সকলের সাথে মঙ্গলা ও কমলাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানেই কমলার মৃত্যু হয়। মঙ্গলাকে বাঁচানো গেলেও পঙ্গু হয়ে যান মঙ্গলা।

কমলার স্মরণে শিলচরের সেই রেলস্টেশনকে ভাষা শহিদ স্টেশন বলা হয়। ভাষা আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১১ সালে ছোটেলাল শেঠ ইন্সটিটিউট এ কমলার একটি ব্রোঞ্জের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়। সবাই তাকে এখনো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

লেখকঃ আবিদা সুলতানা

আরো পড়ুনঃ
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.