পেঁয়াজ সংকটঃ দাম কি আরও বাড়বে? প্রশ্ন ক্রেতাদের

বর্তমানে দেশে পেঁয়াজ সবচেয়ে বেশী আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান, অফিস-আদালত সবখানে এখন পেয়াজের আধিপত্য। সবার মুখে মুখে এখন পেয়াজের নাম। এর কারণ হঠাৎ করেই পেয়াজের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকা।

গত তিন মাস আগে যেখানে পেয়াজের দাম ৩০ টাকা ছিল, এখন সেই পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু কেন এই অস্থিতিশীলতা পেয়াজের বাজারে? তার প্রধান কারণ হচ্ছে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত হঠাৎ করেই বাংলাদেশে পেয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।

তারপর থেকেই দেশে পেয়াজের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। যার বর্তমান অবস্থা আগের রেকর্ডগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে এই সংকট দেশে নতুন কিছু নয়। প্রতিবছরই নির্দিষ্ট একটা সময়ে পেয়াজের বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। তবে সেটা বর্তমান অবস্থার মত ছিল না।

শুধু পেয়াজ নয়, এর আগে ভারত চাল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় দেশে চালের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। তবে এ সংকট থেকেও বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উত্তীর্ণ লাভ করেছে। দেশে এখন চালের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। চালের যেকোন সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রস্তুত আছে বলা যায়।

কিন্তু পেয়াজের সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত এ প্রশ্ন সবার মাঝে। বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা আছে প্রায় ২৫-২৬ লাখ টনের। এর মধ্যে প্রায় ১৭-১৮ লাখ টন পেঁয়াজ দেশেই উৎপাদন হয়। চাহিদার বাকি পেঁয়াজের উপর নির্ভর করতে হয় বাইরের দেশের উপর।

বাংলাদেশ শুধুমাত্র ভারত থেকেই আমদানি করে ৯৫ ভাগ পেঁয়াজ। স্বাভাবিকভাবে ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে সংকট দেখা দিবে। এবং এ সংকট ইতিমধ্যে তীব্র আকার ধারন করছে যখন ভারত পেঁয়াজের রপ্তানি বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে রপ্তানি বন্ধ করলেও মালদ্বীপকে ঠিকই পেয়াজ দিচ্ছে ভারত।

অতিরিক্ত ভারত থেকে আমদানি নির্ভর হওয়ার কারনেই মুলত এই সংকট। এরপর আসে সিন্ডিকেট। তবে এই সিন্ডিকেট কে তৈরি করছে বা এই সিন্ডিকেট হুতাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তার জবাব পাওয়া যায়না।

নীতিনির্ধারকেরা বলছেন নতুন পেঁয়াজ উটলেই দাম কমে যাবে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যে, নতুন পেঁয়াজ উটলেই দাম কমবে। তবে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার আগে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, সেটার সমাধান কি? সেটা কি আগে থেকেই ভাবা উচিৎ ছিলনা?

এর জন্য বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের দায় এড়ানো সম্ভব নয়। বাজারের যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের সতর্ক থাকা উচিৎ ছিল। সঠিক বাজার মনিটরিং ব্যাবস্থা না থাকার দরুন পেঁয়াজের বাজারে এই অবস্থা।

এমন নয় যে বাংলাদেশে পেয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন বাজার ঘুরলেই দেখা যাচ্ছে সারিবদ্ধভাবে পেঁয়াজের বস্তা সাজানো আছে। কিন্তু দামের লাগামহীনতার কারনে ক্রেতাদের কাছে পেয়াজ কেনা দুরূহ হয়ে পড়ছে।

বাজারে এই মুহূর্তে পেঁয়াজের যা দাম, তাতে আগে যারা ব্যাগ বর্তি করে বাড়িতে পেয়াজ নিয়ে আসতেন। তারা এখন আধা কেজি বা এক কেজি পেয়াজ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। পেঁয়াজের দাম লাগামহীনতার কারনে অনেকে পছন্দের খাবারও খেতে পারছেননা। কেউ কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে পেয়াজ ছাড়া খাবার বানানোর কৌশলও বাতলে দিচ্ছেন।

কোন কোন জায়গায় পেয়াজ হালি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম ছাড়িয়ে গেছে আপেল কমলার মত পুষ্টিকর ফলকেও। এখন এক কেজি পেঁয়াজের তুলনায় এসব ফল অনেক সস্তাই বলা যায়। কিন্তু পেঁয়াজের চাহিদা তো আপেল-কমলা দিয়ে পুরন হবেনা।

আলোচনাটা তাই এবার পেঁয়াজের দাম কমবে কবে সেটা নিয়ে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে নতুন যে পেয়াজ বাজারে আসবে সেটি এখনও কৃষকের ক্ষেতে আছে। এবং সেটা বাজারে না আসা পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম কমার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।  

তাই এর সমাধান যত দ্রুত সম্ভব সরকারকেই বের করতে হবে। কারণ ইতিমধ্যেই মানুষের মাঝে পেয়াজ নিয়ে নাভিশ্বাস চলে আসছে। এই সংকট যেন আর সামনে না বাড়ে সেদিকে লক্ষ রেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।   

লেখকঃ সাকির আহমদ
আরও পড়ুনঃ

 

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.