পরিবহন ধর্মঘটের নামে যাত্রীদের হয়রানী

পরিবহন খাত একটি দেশের প্রধান উন্নয়নশীল খাত। বাংলাদেশের এই উন্নয়নশীল খাতই সবচেয়ে বেশী  দুর্নীতিগ্রস্ত। বাংলাদেশের দুর্নীতির ব্যাপকতা এবং গভীরতা বিশাল। আর পরিবহন খাতের দুর্নীতির ফলস্বরূপ প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কারনে গড়ে প্রায় ৫৫ জন মানুষ মারা যায়।

বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারন লাইসেন্স দুর্নীতি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং অদক্ষ চালক। প্রতিদিন নিবন্ধন এবং রুট পারমিট বিহীন হাজার হাজার গাড়ি রাস্তায় চলাচল করছে; যে সকল গাড়ির দুই তৃতীয়াংশেরই রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নেই।

অথচ এ সকল গাড়ির চালকরা নির্বিঘ্নে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার মতো মর্মান্তিক ঘটনা এবং প্রাণ হারাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। সাথে সাথে যানজটও বাড়ছে।

বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করতে সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করেছে এবং “সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮” ঘোষনা করেছে। এ আইন অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে ৮ম শ্রেণী পাশ হতে হবে, বেপোরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে তিন বছরের কারাদন্ড বা তিন লাখ টাকা অর্থদন্ড, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৬ মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ইত্যাদি বিধান ছিল। তাছাড়া, নতুন আইনে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তির পরিমাণ এবং মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

নতুন সড়ক পরিবহন আইন ঘোষনার পর গত বুধবার বাংলাদেশ ‘ট্রাক কাভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদ’ এর পরিবহন শ্রমিকরা অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘট শুরু করে। এর ফলে যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়।

এরই সাথে লাঞ্চিত হন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের চেয়ারম্যান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। বাস-ট্রাক শ্রমিকরা ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবিসহ ব্যানারে জুতার মালা দিয়েছে; এমনটা দেখা গেছে ফেসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

মূলত, ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী যখন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান এরপর থেকেই তিনি নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন শুরু করেন। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য তিনি নানা দাবি তুলে ধরেন, নিরাপদ সড়কের জন্য প্রচুর অর্থও ব্যয় করেন এবং নতুন সড়ক পরিবহন আইনের পক্ষে বিভিন্ন মন্তব্যও করেন।

একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে জনগণের নিরাপত্তার জন্য প্রদানকৃত আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল হয়, ধর্মঘট  হয়, অথচ ,আমরা সচেতন জনগন তখন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করি। যে দেশে গড়ে প্রতিদিন ৫০-৫৫ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় সেই দেশেই নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রধান নেতার গলায় জোতার মালা পরানো ছবি দিয়ে ব্যানার টানানো হয়। কিন্তু সুশীল সমাজসহ, সাধারণ জনগণ এর প্রতিবাদ করেনা।

Samia Rahman Samu
আরও পড়ুনঃ
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.