কিক বক্সিং থেকে গানের দুনিয়ায় সিলেট এর বংশোদ্ভূত আলী জ্যাকো

আলী জ্যাকো

১৯৬৯ সালের ৬ মে লন্ডনে জন্ম হলেও তাঁর আদি বাড়ি সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়নের পাইগাঁও গ্রামে। । পিতা চেয়েছিলেন পুত্র তার বাঙালিআনা পরিবেশে বড় হোক এবং বাংলাদেশের প্রতি সম্পর্ক দৃঢ় হোক। তাই আলী জ্যাকোর জন্মের পর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন পিতা চমক আলী। তার মাতার নাম গুলনাহার বেগম। মোহাম্মদ ‌আব্দুল আলী (মোহাম্মদ আলী জ্যাকো) পেশায় একজন কিকবক্সার। পাশাপাশি টিভি প্রোডাকশনের সঙ্গে জড়িত আছেন বহুদিন ধরে। নাম আব্দুল আলী হলেও কিক বক্সের দুনিয়ায় তিনি ‘আলী জ্যাকো’ নামেই সুপরিচিত।

কিক বক্সিং এ সাফল্য

২০০২ সালে পেশাদার কিক বক্সিং থেকে অবসর নেয়ার আগ পর্যন্ত তিনি পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন খেতাব অর্জন করেন। ১৭ বছর বয়সেরই আলী জ্যাকো পূর্ব লন্ডনে ফ্যাশন ডিজাইন এবং পোশাক কারখানা পরিচালনা করতেন। এরপর বক্সার হিসেবে পরিচিতি অর্জনের পর প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব মিডিয়া কোম্পানী জ্যাকো টিভি। এই প্রতিষ্ঠান স্কাই ও চ্যানেল ফাইভের হয়ে বিভিন্ন বক্সিং প্রতিযোগিতার ভিডিও ধারণের পাশাপাশি বক্সারদের নিয়ে নানা তথ্যচিত্র নির্মাণ করে প্রচারের ব্যবস্থা করে। মিউজিক করার জন্য তিনি একটি শক্তিশালী টিম তৈরি করেছেন। গান লেখায়ও পারদর্শী তিনি। নিজ লেখা গান দিয়ে তিনি এ যাবৎ কালের সবচেয়ে ব্যায়বহুল মিউজিক ভিডিও তৈরি করেছেন। ভিডিওটিতে মডেল হয়েছেন বিশ্বখ্যাত সুপার মডেল জোডি কিড। লন্ডনের শিল্পী ও গীতিকার আলী জ্যাকো তার গানের মধ্যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তার গানের নাম ‘গিভ মাই লাভ এ ব্রান্ড নিউ নেম। এই গানের মাধ্যমে তিনি তার রক ক্যারিরার শুরু করেছেন। ৪৬ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি তার বর্ণাঢ্য বক্সিং ক্যারিয়ারে পরাজিত হতে শেখেন নি। মিউজিক ক্যারিয়ারেও তিনি সফল হওয়ার জন্য বদ্ধ পরিকর।

গানের জগতে

আমার শিল্পী হওয়ার কোন ইচ্ছা ছিল না। আমি জীবনে অনেক কিছুই করেছি, তবে সবসময় আমি গানকে ভালোবেসেছি। বলিউড অভিনেতা সালমানের সঙ্গে আলীর বন্ধুত্ব বহুদিনের। ১৯৯৬ সাল থেকে তাদের গভীর বন্ধুত্ব। লন্ডনে গেলে এই বন্ধুর সঙ্গে না দেখা করে আসেন না সালমান। আসন্ন সিনেমায় এবার বন্ধুর গান যোগ করলেন বলিউডের এই সুপারস্টার অভিনেতা। রেইস-৩’ ছবিতে আলীর গান রাখেন সালমান নিজেই। আলী জ্যাকোর গাওয়া মোট সাতটি ইংরেজি গান পছন্দ করেন সালমান, যা গেল বছরে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন সালমান। সেই গানগুলোর একটি হলো ‘আই ফাউন্ড লাভ’। এই গানটির হিন্দি সংস্করণ ‘রেস-৩ ছবিতে ব্যবহার করেছেন সালমান। পেশাদারিত্ব থেকে নয়, শখের বশেই গানের জগতে পা রাখেন আলী। সালমানের ইচ্ছাতেই ‘রেইস-৩’ ছবির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সামনে আসতে চলেছেন আলী। পুরো বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত সম্মানজনক বলে জানিয়েছেন।

ইংরেজি গান দিয়ে শুরু করলেও, বাংলা গানের প্রতি ভালবাসা তাঁর সব সময়ের। বিশেষ করে বাংলা লোক ও বাউল গানের প্রতি। সুনামগঞ্জের ছাতকের এই সন্তান বলেন, যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও তিনি বাংলাদেশরই সন্তান।

জ্যাকোর বাউল ঘরানার এই গানটির কথা লিখেছেন ও সূর করেছেন জুবায়ের বাবু। আর সঙ্গীতায়োজনের কাজটি তাঁরা দুজনে মিলেই করছেন। যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসলের একটি সমুদ্র সৈকতে গানটির ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয়।

আলী জ্যাকোর গাওয়া আপন হলো পর গানের লিঙ্ক : https://youtu.be/0COvz6mTL3M

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.