এবার আগুন নেভানোর ব্যাবস্থা জানতে নোটিশ

রাজধানীতে পর পর কয়েকটি ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর আগুন নেভানোর ব্যাবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপক আইন ২০০৩ এবং ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০১২ অনুসারে ঢাকার সব বহুতল ভবনে অগ্নিনির্বাপণে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়ে একটি যৌথ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মুহাম্মদ ইকবাল কবির ও বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সমন্বয়ে ঘটিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।

রাজউক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন এবং ফায়ার সার্ভিসকে আগামী চার মাসের মধ্যে কমিটি করে যৌথ প্রতিবেদনের জন্য বলা হয়েছে।

গতকাল ৩১ মার্চ রবিবার এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন গুলশান সোসাইটির মহাসচিব সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারওয়াত সিরাজ। আদালতে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল কাজি জিনাত হক।

এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের যন্ত্রপাতি, লোকবল, গাড়ি ইত্যাদি কি পরিমাণ আছে তাও হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন।

সারওয়াত সিরাজ দুটি অন্তর্বর্তীকালের আদেশ উল্লেখ করে বলেন, আদালত এ দুটি আদেশ ছাড়াও রুল জারি করেছেন। রুলে স্বাধীনভাবে তদন্তের পর চক বাজার ও বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, জনমনে সচেতনতা বাড়াতে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, গুলশান এলাকায় ফায়ার স্টেশন স্থাপনে জমি বরাদ্দের কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক, রাজউক চেয়ারম্যান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, শিক্ষা এবং খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আগুনের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এ রিট আবেদন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখে পুরান ঢাকার  চকবাজারে ভয়াবহ এক অগ্নিকান্ড ঘটেছিল। এ অগ্নিকান্ডে ৭৮ জনের প্রাণহানি হয়। প্রায় ৩৬ দিনের ব্যবধানে মার্চের ২৮ তারিখে আবারও অগ্নিকান্ডের শিকার হয় রাজধানী। রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ডে একজন বিদেশী নাগরিক সহ ২৬ জনের মৃত্যুর হয়।

এর পর বনানীর এফ আর টাওয়ারের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের রেশ কাটতে না কাটতে গুলশান ১ এর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন  মার্কেটে আগুন লাগে। এতে মার্কেটের ২৯১ টি দোকানের মধ্যে ২১১টিই পুড়ে যায়।  

লেখকঃ Mustafa Shakir

আরও পড়ুনঃ গুলশান আগুন: মার্কেটকে ৩/৪ বার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল

এবার গুলশান কাচাবাজার আগুনে ২১১ টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত্র

 

 

 

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.