38.3 C
Sylhet Division
Tuesday, April 7, 2020
Home প্রসিদ্ধ খাবার হারিয়ে যেতে বসেছে শীতকালের খেজুররস!

হারিয়ে যেতে বসেছে শীতকালের খেজুররস!

এখন শীতকাল। শীতকালের কুয়াশা ও ঠান্ডা আবহাওয়া আমাদেরকে নানারকম খাবারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আর খাবারের কথা বললেই পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থান নিয়ে বসে থাকা খেজুররস এর কথা মনে পড়ে যায়।

স্বাদে অনন্য ও অতুলনীয় এই রসের কথা বললেই অনেকের জিভে জল চলে আসার কথা। যদিও বাঙ্গালীর কাছে খেজুররস অতি জনপ্রিয় একটি খাবার,তবে বর্তমানে নানা প্রতিকুল পরিস্থিতির কারনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই জনপ্রিয় খাবার।

মরু ও শুষ্কতম অঞ্চলের উদ্ভিদ হলো খেজুর গাছ। যে সকল খেজুর গাছে শাঁসযুক্ত এবং খাবার উপযোগী খেজুর উৎপাদিত হয়না, তা থেকেই রস আহরণ করা হয়। কারণ উৎকৃষ্ট ও খাবার উপযোগী নয় এমন খেজুর গাছের রস আকর্ষণীয় ও স্বাদযুক্ত হয়।

শীতকালে সংগৃহীত এই মিষ্টি স্বাদের রস খনিজ ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। ঠান্ডা আবহাওয়া ও কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে প্রাপ্ত খেজুররসের স্বাদ মজাদার হয়। বাংলাদেশের ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারী মাসে (পৌষ-মাঘ) বেশী খেজুরের রস পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত এ রস দিয়ে বাঙ্গালিরা নানা রকম পিঠা-পায়েশ তৈরি করে; যা অত্যন্ত মুখরোচক। এছাড়াও এ রস দিয়ে পাটালি ও লালিগুড় তৈরি হয়। কিন্তু, অত্যন্ত দু:খজনক হলে ও সত্যি যে, জনপ্রিয় এ খাবার সরাসরিভাবে পান করলে “নিপাহ” নামক ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; যা ‘নিপাহ’ নামক ভাইরাসের সংক্রমনে হয়ে থাকে।

IEDCR ( জাতীয় রোগতত্ত্ব ও রোগনিয়ন্ত্রন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ) এর বৈজ্ঞানিকরা আশংকা করছেন যে, প্রাথমিকভাবে ভাবে আহরণকৃত খেজুরের রসে নিপাহ নামক একধরনের ভাইরাস পাওয়া যায়; যার কোন টিকা ও চিকিৎসা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি।

এ ভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানোর জন্য তারা খেজুররস ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। শীতকালে খেজুররস সংগ্রহ করার জন্য মানুষ খেজুর গাছে মাটির হাঁড়ি বা পাতিল বেধেঁ রাখে। এ সময় যদি বাদুড় ঐ রসে মুখ দেয়, তার মুখের লাল রসের সাথে মিশে নিপাহ ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়।

বাংলাদেশে নওগাঁ, খুলনা, যশোর, বরিশাল এলাকায় খেজুর চাষ হয়। বাংলাদেশী খেজুর গাছের ফসল উন্নতমানের এবং পুরোপুরিভাবে পরিপক্ব হয় না বলে মূলত রস ও গুড়ের জন্য খেজুর চাষ করা হয়। শীতকালে গাছিরা খেজুরের রস বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়।

শীতের মৌসুম থেকে শুরু করে প্রায় পাঁচ মাস এ রস আহরণ করা হয়। বাঙ্গালির ঐতিহ্যবাহী এ খেজুরের রসের চাষী বা গাছি সংকট দেখা দিয়েছে বর্তমানে। সাধারণত, শীত মৌসুমের আগে থেকেই খেজুর গাছের মাথা ছুলে রাখতে হয়, নতুবা রস পাওয়া যায় না।

পূর্বপ্রস্তুতিমূলক এই কাজ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও পরিশ্রমের। তাছাড়া, বাংলাদেশে যত দিন যাচ্ছে শীতের তীব্রতা তত কমছে। যার ফলে পূর্বে প্রতি রাতে যে পরিমাণ রস পাওয়া যেত বর্তমানে তার এক তৃতীয়াংশ পাওয়া যাচ্ছে।  আর এ কারণেই গাছিরা খেজুররস সংগ্রহে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। 

লেখকঃ Samia Rahman Samu
আরও পড়ুনঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো বিশ্ব

যতই দিন যাচ্ছে সমস্যা সমাধানের পথ যতই বের হচ্ছে ততই বেড়ে চলেছে রোগব্যাধি। সেটা কী আমাদের জনসচেতনতার অভাব নাকি প্রকৃতির দান?  হয়তো আমরা অনেকেই...

এক মাসে ৯জনের মৃত্যু; আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুন হারে বাড়ছে

এক মাসে ৯জনের মৃত্যু; আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুন হারে বাড়ছে। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের এক মাস হয়ে গেলো। এই একমাসে করোনা বা কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন...

করোনা মহামারিতে স্কুল বন্ধ; ক্লাস হচ্ছে টিভিতে

করোনা মহামারিতে স্কুল বন্ধ; ক্লাস হচ্ছে টিভিতে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশ লকডাউন, সাথে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ। এমন অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ সরকার সংসদ...

৩৪ বছর লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন সুচিত্রা সেন

অভিনেতা-অভিনেত্রী মানেই সাধারণ লোকজনের কাছে জনপ্রিয় কোন এক ব্যক্তিত্ব; যার সবসময়ের আপডেট ছবি দর্শকের ঘরে ঘরে, মহল্লায় মহল্লায় টাংগানো থাকে। কিন্তু, বাংলা ও ভারতের...

কমেন্টস