38.3 C
Sylhet Division
Tuesday, April 7, 2020
Home প্রসিদ্ধ খাবার শীতে নিন চুঙ্গাপুড়া বা চুঙ্গাপিঠার স্বাদ

শীতে নিন চুঙ্গাপুড়া বা চুঙ্গাপিঠার স্বাদ

গ্রামীণ ঐতিহ্য চুঙ্গাপুড়া বা চুঙ্গাপিঠাঃ অগ্রহায়ণ মাস চলে এসেছে। সাথে সাথে এসে গেছে ও শীত। ভোর বেলা পাখির কিচিরমিচির ডাক আর টুপটাপ করে ঝরে পড়া কুয়াশার ফোটা আমাদেরকে শীতের বার্তা জানিয়ে দেয়।

শীত আসলেই মনে পড়ে যায় নানানরকম পিঠার কথা। এরকম একটি পিঠা হলো চুঙ্গাপুড়া। সাধারনত অগ্রহায়ণ মাসের ধান কাটার পর এই পিঠা খাওয়ার ধুম চলে গ্রামাঞ্চলে। নতুন ধান ঘরে উঠার খুশিতে যেন এই পিঠা উৎসবের আয়োজন হয়।

চুঙ্গাপুড়া খাবারটি আসলে আদিবাসীদের খাবার। জানা যায় যে, পাহাড়ি  আদিবাসীরা বাঁশ কেটে বাশেঁর চুঙ্গায় ভেজা চাল ভরে এই খাবারটি তৈরি করতো। সিলেট অঞ্চলে ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠী বা আদিবাসীরা সংখ্যায় বেশি ছিলো বলে, তাদের এই খাবার ধীরে ধীরে সিলেটেও জনপ্রিয়তা লাভ করে।

চুঙ্গাপুড়া তৈরি হয় একধরনের বাশেঁর ভিতর চাল ঢুকিয়ে। পরে তা খড়ের সাহায্যে পুড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তুলা হয়। বাগানে একধরনের মুলিবাঁশ পাওয়া যায়। মুলিবাঁশ ও চাল সহযোগে তৈরি চুঙ্গাপুড়া এক সুস্বাদু পিঠা।

মুলি বাশেঁর ফাঁকা অংশের ভিতর প্রথমে পরিষ্কার ও শুকনো কলাপাতা এমনভাবে ডুকানো হয়, যাতে বাশেঁর ভিতরে কোন অংশ ফাঁকা না থাকে। এরপর এর ভিতর আঠালো বৈশিষ্ট্যের বিরনী (বিরইন) চাল ভরে বাশেঁর মুখ খোঁলা রেখে খড়ের আগুনে পুড়া হয়।

এর ফলে ভিতরের চাল সিদ্ধ হয়ে যায়। কিছু কিছু মানুষ বিরনী চালে চিনি, দুধ, নারিকেল এবং চালের গুড়ো মিশিয়ে প্রসিদ্ধ এই খাবারকে আরো মজাদার করে তুলে। কেউ কেউ আবার খেজুরগুড় দিয়েও এই খাবার খেতে পছন্দ করেন।

কাঁচা বাশ এবং চালের সুন্দর ঘ্রাণ বাতাসে বাতাসে উড়ে বেড়ায়। শীতের সময় সকাল-বিকাল এসব খাবার উল্লসিত করে গ্রামীন জনপদের মানুষকে।

যান্ত্রিক সভ্যতার অভ্যন্তরে বসবাস করা নগরের কর্মব্যস্ত মানুষগুলো যখন একটু সময় বের করে গ্রামে ফেরে, তখন তারা এই পিঠার লোভে উদ্বেলিত হয়।

বিশেষ করে শিশুরা চুঙ্গাপুড়ার এ উৎসব খুব উপভোগ করে। কারণ চুঙ্গাপুড়া দেখার পাশাপাশি শিশুরা আগুনের দাহে নিজেদের শরীরও কিছুটা গরম করতে পারে।

কুয়াশা আর ঠান্ডা হাওয়া ছাড়া যেমন শীতকে কল্পনা করা যায় না, ঠিক তেমনি পিঠা ছাড়া  বাঙালির গ্রামীণ ঐতিহ্য ও কল্পনা করা যায় না। কারন, বাংলাদেশ হলো পিঠা পুলির দেশ।

এছাড়া ও শীতকালে আরো অনেক মজাদার পিঠা খাওয়া হয়, যেমন- ভাপা পিঠা, চিতইপিঠা, পাটিসাপটা, পুলিপিঠা, ইত্যাদি। পিঠার এমন বাহারি নাম পিঠা খাওয়ার চাহিদা যেনো আরো বাড়িয়ে দেয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার পিঠার নামের মধ্যে যেমন পার্থক্য রয়েছে, তেমনি এক এক এলাকায় পিঠাভিত্তিক এক এক সংস্কৃতি  গড়ে উঠেছে। সিলেট  অঞ্চলের মানুষরা নবান্ন উৎসব পালন করে চুঙ্গাপুড়া, ভাপাপিঠা নামক এমন সব পিঠা উৎসবের মাধ্যমে।

লেখকঃ Samia Rahman Samu
আরও পড়ুনঃ

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো বিশ্ব

যতই দিন যাচ্ছে সমস্যা সমাধানের পথ যতই বের হচ্ছে ততই বেড়ে চলেছে রোগব্যাধি। সেটা কী আমাদের জনসচেতনতার অভাব নাকি প্রকৃতির দান?  হয়তো আমরা অনেকেই...

এক মাসে ৯জনের মৃত্যু; আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুন হারে বাড়ছে

এক মাসে ৯জনের মৃত্যু; আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুন হারে বাড়ছে। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের এক মাস হয়ে গেলো। এই একমাসে করোনা বা কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন...

করোনা মহামারিতে স্কুল বন্ধ; ক্লাস হচ্ছে টিভিতে

করোনা মহামারিতে স্কুল বন্ধ; ক্লাস হচ্ছে টিভিতে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশ লকডাউন, সাথে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ। এমন অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ সরকার সংসদ...

৩৪ বছর লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন সুচিত্রা সেন

অভিনেতা-অভিনেত্রী মানেই সাধারণ লোকজনের কাছে জনপ্রিয় কোন এক ব্যক্তিত্ব; যার সবসময়ের আপডেট ছবি দর্শকের ঘরে ঘরে, মহল্লায় মহল্লায় টাংগানো থাকে। কিন্তু, বাংলা ও ভারতের...

কমেন্টস