আনাজ, সিলেটের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার

চায়ের দেশ তিনশ ষাট আউলিয়ার দেশ নামে পরিচিত অপূর্ব এ লীলাভূমি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে সিলেট গোটা বাংলাদেশ পরিচিত।

প্রত্যেক জায়গা বিশেষ যেমনঃ- ধর্ম, কর্ম, গোত্র, কলা-কৌশল, আচার-ব্যবহার, নিয়ম-নীতি, সংস্কৃতিতে যেমন একটা আলাদা আলাদা বৈষম্য রয়েছে, তেমনি স্থানীয় খাবার-দাবারেও রয়েছে ভিন্নতা।

সিলেটের একটি খাবার হচ্ছে হাঁস দিয়ে বাঁশ! সিলেটের  মানুষ বাঁশ খায়! আজ্ঞে জি! হাঁস দিয়ে বাঁশ খেতে পছন্দ  করে সিলেটবাসীরা। সিলেটের  মানুষ  আপনার না জানা এমন অনেক আশ্চর্যের খাবার খায়, শুনে হয়তো চমকে যাচ্ছেন চমকে যাবেনইতো।

আসলে সিলেটে এমন প্রচলিত কিছু প্রিয় খাবার মধ্যে হাঁস দিয়ে বাঁশ খাওয়া তা শুনে ভাবছেন ধারা সিলেটবাসীরা সবুজ রঙের ঐ শক্ত জড় পদার্থ কিভাবে খেয়ে হজম করে?

আরেহ্ নাহ। ব্যাপারটা এমন না। বাঁশ খায় বলে শক্ত বাঁশ খায়? একরকম বলি নাই তো ভাই।

এবার আসুন তাহলে কিভাবে খায়? বাঁশ যখন মাটি থেকে গজিয়ে এক থেকে দুই হাত লম্বা হতে থাকে তখন তার এই অংশটা নরম  থাকে, আর তখন তার এই নরম অংশ  কেটে নিয়ে সুন্দর করে  সুস্বাদু এবং গ্রামীণ একটা প্রসেসে হাঁসের মাংস দিয়ে রান্না করা হয় আর এটাকেই তারা বলে  হাঁস দিয়ে বাঁশ রান্না। এটা খেতে এতটা সুস্বাদু আর আকর্ষণীয়, মনে হলেই জ্বিবে জল আসার মত।

এবার আরেকটা ভিন্নধর্মী সিলেটি খাবার এর কথা  বলি, যে সিলেটবাসিরা কলা গাছ খায়!

আনাজ

হ্ থো হয়ে গেছেন? ব্যাপার নাহ্ তারা যদি বাঁশকে খাওয়ার উপযোগী  করে তুলতে পারে কলা গাছ আর এমন কি? ভাই নিশ্চয়ই ভাবছেন সিলেটের মানুষগুলা কি সব বাঁশ গাছ লতা পাতা খায় নাকি? খায়! খায়! এমন অনেক কিছুই খায় তারা সিলেটবাসীরা। তবে সুন্দর সুস্বাদু করে খায়।

এখন আসি কলা গাছ কিভাবে খায়? সবুজ রঙের শক্ত আবরণের ভেতরে সাদা সুন্দর লম্বা গোলাকার আকৃতি একটা অংশ থাকে যাকে সিলেটের আঞ্চলিক লোকেরা আনাজ বলে। আনাজ নামে পরিচিত।

আনাজ
আনাজ

কলা গাছ কাটার পর সুন্দর করে এর ভেতর থেকে সাদা অংশটা কে বের করে  তুলে নিয়ে রাখে যেটাই  হল আনাজ আর এই আনাজ সাধারণত বেশিরভাগ মানুষ চিংড়ির সাথে রান্না  করে খেতে পছন্দ করে। আবার কলাগাছের মোচাটা রান্না করে অথবা ভর্তা বানিয়ে  খায়।

এ দুটি খাবারের জুড়ি নেই সিলেট অঞ্চলের মানুষের কাছে এগুলো এতো প্রিয় এতো প্রিয় যে, সময়ের সাথে সাথে এখন সিলেটের বাইরের অঞ্চলের লোকগুলো ও এ খাবার খেতে আগ্রহী এবং এই খাবার সম্পর্কে ধারনা রাখে।

লেখকঃ Sultana Rosye
আরও পড়ুনঃ
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.