অকাল  মৃত্যুর হাত থেকে বাচঁতে নিয়মিত  সকালে  হাঁটা প্রয়োজন

হাঁটা-হাঁটি এমন এক ধরনের ব্যায়াম যেটাতে লাগে না কোন টাকা খরচ, লাগে না কোনো কষ্ট। একটু সময় হলেই হলো। এটি আমাদের সাস্থের জন্য হাজার হাজার গুণে উপকারী।

শীতের সকালটা থাকে অন্যান্য সকালের থেকে একেবারে আলাদা। শীতের সকালে যদি কেউ হাঁটা চলা করতে বের হন, তাহলে উপভোগ করতে পারবেন কুয়াশা ডাকা সেই সকালটা। ঘাসের ডগায়   প্রতি ফোটা শিশিরবিন্দু। আর কিছু বেলা হলে কুয়াশাকে কমানোর জন্য আড়ালে সূর্যের উঁকি। পাখ-পাখালির কিচিরমিচির শব্দ।

পখিরা ছুটে বেড়ায় খাদ্যের সন্ধানে। সূর্য যখন উঁকি দেয় তখন খেয়াল করলে দেখতে পাবেন হালকা ধোঁয়া বের হচ্ছে। তখন অনেক সুন্দর একটা প্রকৃতি উপভোগ করার মতো হয়। প্রতিটি গাছ-গাছালি বা পাতার ফাকে আলো কি না সুন্দর দেখতে।

প্রতি দিন সকাল শুরু হয় দূষণ মুক্ত পরিবেশের মাধ্যমে। আর এই দূষণ মুক্ত প্রকৃতি আমাদেরকে উপহার দেয় নতুন করে বাচার প্রয়াস। প্রতিটি সকাল মানেই এক একটা নতুন দিন। এক একটা নতুন স্বপ্ন, এক একটা নতুন আয়োজন।

শুধু  শীতের সকালে নয়, প্রতি দিন  যদি ৩০ মিনিট হাঁটতে পারেন তা হবে আপনার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। এক সপ্তাহে কম পক্ষে  ১৫০ মিনিট হাঁটা উচিৎ। এই ১৫০ মিনিটকে যদি কেউ ৭ ভাগে ভাগ করে ৭ দিন নিয়মিত হাঁটতে পারেন তাও অনেক ভালো।

এক জন সুস্থ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাইলে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। সকালে হাঁটা-হাটি করে দেখেন নিজেকে কতটুকু ফুরফুরে মনে হয়। হাল্কা দৌড়ে হাঁটেন, চলে যাবে শরিরের সব ব্যাথা।

শীতের সকালে হাঁটার ফলে কন কনে শীতটা অনেক অংশে কম লাগবে, অলসতা দূর হবে, নিজেকে অনেক অনেক প্রফুল্ল মনে হবে। মন মানসিকতা ভালো থাকবে। যে কোন কাজে নিজেকে দক্ষ মনে হবে। কাজ করতে অজানা শক্তি চলে আসবে।

হাঁটা-হাটি রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করবে। এই হাঁটা-হাটির জন্য আপনি রেহাই পাবেন শত শত রোগ থেকে। তাহলে ফ্রিতে এই ওষুধ কাজে লাগালে অপকারের চেয়ে উপকারই পাবেন বেশি।

হাঁটার কিছু নিয়মও আছে। যেকোনোভাবে হাঁটলেই আবার উপকার পাবেন না। ঘুম থেকে উঠেই হাঁটতে বের হওয়া  যাবে না। ঘুম থেকে উঠেন ১০/১৫ মিনিট পর বা নামায পড়ে তার পর শুরু করেন।

এমন ভাবে হাঁটবেন যাতে হাটার সময় সাথে কোন এক জন লোকের সাথে কথা বলতে পারছেন এবং ঘেমে যাচ্ছেন। অনেক দ্রুত হাঁটা যাবে না আবার অনেক আস্তেও হাটা যাবে না। হাল্কা দৌড়ে হাঁটা সব থেকে উপকারী।

যদি কেউ প্রশ্ন করেন হাঁটলে কী হবে? সেই প্রশ্নের জবাবে বলা যাবে, প্রতি দিনের হাঁটা-হাটির ফলে যে সকল রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তা হলোঃ- ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল, স্ট্রোক থেকে রক্ষা পাওয়া। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, ত্বক ভালো রাখা, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করা, মানসিক চাপ কমায় নিয়মিত হাঁটলে।

আজ কাল আমরা দেখতে পাচ্ছি হৃদ রোগ ও স্ট্রোক করে অল্প বয়সেই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছেন আমাদেরি আত্বীয়স্বজন পাড়া প্রতিবেশির অনেকেই। স্ট্রোকের প্রবনতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। নিয়মিত হাঁটেন আর গুডবাই বলেন স্ট্রোক ও হৃদরোগ জাতীয় অসুখ।

কোলস্ট্যারল ও ডায়বেটিস এখন অল্প বয়সেই ধরা দিচ্ছে। এই কোলস্ট্যারল ও ডায়বেটিস এর কারণ হচ্ছে আমাদের অলসতা। অলসতাকে বিদায় দেন কোলেস্টেরল ও ডায়বেটিস থেকে মুক্তি নেন।

প্রতিদিনের সকালে দূষণমুক্ত পরিবেশে হাটলে দূষণমুক্ত অক্সিজেন আমাদের স্মৃতিশক্তি ও দৃষ্টি শক্তিকে অনেক গুনে বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতি দিন মোবাইল ও কম্পিউটার এ গাটাগাটি করার ফলে হারিয়ে ফেলছি স্মৃতিশক্তি ও দৃষ্টিশক্তিকে।

আবার কিছু কুসংস্কার ও শুনতে পাই আমরা রোগ মুক্ত অল্প বয়সীরা। কিছু কিছু লোক মনে করেন যারা সকালে হাটতে বের হন সবাই রোগী। কিন্তু আসলে এরা রোগী নয় বরং বুদ্ধি করে রোগকে এড়িয়ে যাচ্ছেন।

শীতের সকালে একটু সতর্কতার সাথে হাঁটতে বের হোন। হাঁটার উপযোগী এমন শীতের কাপড় পড়ে বের হোন সেটাই ভালো হবে।

Abida Sultana
আরও পড়ুনঃ
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.