সর্বখ্যাতি সম্পন্ন ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদ নলিনীকান্ত ভট্টশালী

সর্বখ্যাতি সম্পন্ন ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদ নলিনীকান্ত ভট্টশালী। ভারত ও বাংলাদেশ উভয় জায়গায় তিনি ছিলেন এক অসাধারণ ব্যাক্তিত্ব। ১৮৮৮ সালের ২৪শে জানুয়ারি জন্মগ্রহন করেন তিনি। “ঢাকা জাদুঘর” এর প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালকও ছিলেন নলিনীকান্ত ভট্টশালী।  

তিনি একাধারে একজন গবেষক, প্রত্নতত্ত্ববিদ, মুদ্রাতত্ত্ববিদ, ইতিহাসবেত্তা এবং  লিপিবিশারদ। মুন্সীগঞ্জ জেলার নয়নানন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই পন্ডিত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন ১৯১২ সালে এবং পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৩৪ সালে।

নলিনীকান্ত ভট্টাশালী খুব পরিশ্রমী ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ইতিহাস ও  প্রাচীন হস্তলিপিবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে, ১৯১৪ সাল থেকে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ বছর তিনি ঢাকা জাদুঘরের কিউরেটর হিসেবে কাজ করেন। তিনি ব্যাক্তিগতভাবে জাদুঘরের বিকাশ ও উন্নয়নের জন্য অনেক মনোযোগী ছিলেন।

জাদুঘর প্রতিষ্টার পূর্বেই তিনি প্রাচীন জিনিস সংগ্রহের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। ভারতের মধ্যে সর্বখ্যাতিসম্পন্ন প্রত্নতত্ত্ববিদ ছিলেন তিনি। সকল ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদ এর আদর্শ ছিলেন তিনি। তখনকার সময় সকল গবেষকরা তাকে অনুসরণ করতেন।

জাদুঘরে রক্ষিত মুসলিম আমলের মুদ্রাগুলি তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতেন। দীর্ঘদিন এ সকল মুদ্রা নিয়ে গবেষনার ফলে ধীরে ধীরে স্বীকৃত ও দক্ষ পন্ডিত হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।

নলীনিকান্ত ভ্রমনপ্রিয় মানুষ ছিলেন। এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। যে জায়গায়ই যেতেন, সেখানে গিয়ে নতুন কিছু অনুসন্ধান করে বের করতেন। প্রাচীন ও পুরাতন মূল্যবান যাই পেতেন তা সংগ্রহ করতেন। আবিষ্কারের নেশায় মগ্ন থাকতেন সবসময়।

তাই যেখানেই যেতেন তথ্য অনুসন্ধান করতেন। যেখানেই মূল্যবান কিছু পে্তেন সেখানেই খনন কাজ ও প্রদর্শনীর আয়োজন করতেন। পাশাপাশি স্থানীয় লোকদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য উৎসাহ দিতেন।

তিনি সাহিত্য সাধনায়ও নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর লেখা প্রচুর বইও রয়েছে। বইগুলো বিশেষ করে বাংলা ও ভারতের ইতিহাস এবং প্রত্নতত্ত্ব বিষয় নিয়ে লেখা। লেখার জন্য তিনি “গ্রিফিথ পুরস্কার” পেয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যে তাঁর লেখা ছোট গল্প ‘হাসি ও অশ্রু’ বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিনি তাঁর সকল লেখাকে বিজ্ঞান ও যুক্তি দ্বারা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করতেন। এজন্য লেখাগুলো পাঠকসমাজে মর্যাদা পেয়েছিলো।

তিনি তাঁর কাজের প্রতি নিষ্টাবান ও দায়িত্বশীল ছিলেন। তিনি প্রচুর প্রত্ন-নিদর্শন সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করেন। কাজে থাকা অবস্থায়ই তিনি ১৯৪৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

লেখকঃ সামিয়া

আরো পড়ুনঃ

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.