38.3 C
Sylhet Division
Tuesday, April 7, 2020
Home আন্তর্জাতিক বাবরি মসজিদ রায় নিয়ে বিস্মিত ভারতের সাবেক বিচারপতি!

বাবরি মসজিদ রায় নিয়ে বিস্মিত ভারতের সাবেক বিচারপতি!

ভারতের অযোধ্যায় ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে বিতর্কিত রাম মন্দির বানানোর রায় দিয়েছে ভারতের আদালত। গতকাল শনিবার (৯ নভেম্বর) আলোচিত বাবরি মসজিদ, রাম জন্মভূমি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে।

এই রায়ে অযোধ্যার ঐতিহাসিক ৫০০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদের ওই জমিতে মন্দির বানানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। আর মুসলমানদের অন্য জায়গায় মসজিদ বানানোর জন্য পাঁচ একর জমি দিতে বলা হয়েছে সরকারকে। এ নিয়ে ভারতজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।

বাবরি মসজিদ

বিতর্কিত এই রায় এবং তার আগে বাবরি মসজিদ ভাঙার সমালোচনা করেছেন ভারতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোককুমার গঙ্গোপাধ্যায়। ২০০৮ সাল থেকে ২০১২ মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করা অশোককুমার পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানও ছিলেন।

ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে এক নিবন্ধে অশোককুমার বলেন, ‘এই রায়টা কিসের ভিত্তিতে দেওয়া হল, সবটা ঠিক বুঝতে পারছি না। সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সেই আদালত একটা রায় দিলে তাকে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজে পাচ্ছি না।’

‘চারশো-পাঁচশো বছর ধরে একটা মসজিদ একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল। সেই মসজিদকে আজ থেকে ২৭ বছর আগে ভেঙে দেওয়া হল বর্বরদের মতো আক্রমণ চালিয়ে। আর আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলল, ওখানে এবার মন্দির হবে।’

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোককুমার বলেন, ‘সাংবিধানিক নৈতিকতা বলে তো একটা বিষয় রয়েছে! এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যাতে দেশের সংবিধানের উপর থেকে কারও ভরসা উঠে যায়।

আজ অযোধ্যার ক্ষেত্রে যে রায় হল, সেই রায়কে হাতিয়ার করে ভবিষ্যতে এই রকম কাণ্ড আরও ঘটানো হবে না, সে নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবেন? শুধু অযোধ্যায় নয়, মথুরা এবং কাশীতেও একই ঘটনা ঘটবে— এ কথা আগেই বলা হত।

যারা গুন্ডামি করে বাবরি মসজিদ ভেঙেছিলেন, তারাই বলতেন। এখন আবার সেই কথা বলা শুরু হচ্ছে। যদি সত্যিই মথুরা বা কাশীতে কোনও অঘটন ঘটানো হয় এবং তার পরে মামলা-মোকদ্দমা শুরু হয়, তা হলে কী হবে? সেখানেও তো এই রায়কেই তুলে ধরে দাবি করা হবে যে, মন্দিরের পক্ষেই রায় দিতে হবে বা বিশ্বাসের পক্ষেই রায় দিতে হবে।’

বাবরি মসজিদ

‘অযোধ্যা মামলা এর আগেও সুপ্রিম কোর্টে উঠেছে। তখনই আদালত স্বীকার করে নিয়েছিল যে, বিতর্কিত জমিতে মসজিদ ছিল। যেখানে বছরের পর বছর ধরে নামাজ পড়া হচ্ছে, সেই স্থানকে মসজিদ হিসেবে মান্যতা দেওয়া উচিত, এ কথা আদালত মেনে নিয়েছিল। তা হলে আজ এই নির্দেশ এল কীভাবে? যেখানে একটা মসজিদ ছিল বলে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই মেনেছে, সেখানে আজ মন্দির বানানোর নির্দেশ সেই সুপ্রিম কোর্টই দিচ্ছে কোন যুক্তিতে?’

প্রত্নতাত্ত্বিকদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে অবসরপ্রাপ্ত এ বিচারপতি বলেন, ‘ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (এএসআই) জানিয়েছিল, ওই মসজিদের তলায় একটি প্রাচীনতর কাঠামোর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু সেই প্রাচীনতর কাঠামো যে মন্দিরই ছিল, এমন কোনও প্রমাণ তো মেলেনি। সুপ্রিম কোর্ট নিজেও মেনে নিয়েছে যে, পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের রিপোর্টে কোনও ভাবেই প্রমাণ হচ্ছে না যে, একটা মন্দিরকে ভেঙে ওখানে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল।’

‘তা হলে কিসের ভিত্তিতে আজ মন্দির তৈরির নির্দেশ? বিশ্বাসের ভিত্তিতে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলল, অনেক হিন্দুর বিশ্বাস যে, ওখানে রামের জন্ম হয়েছিল। বিশ্বাস বা আস্থার মর্যাদা রাখতে ওই বিতর্কিত জমি রামলালা বিরাজমানের নামে দিয়ে দেওয়া হল। এটা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত হল?

রামচন্দ্র আদৌ ছিলেন কি না, কোথায় জন্মেছিলেন, সে সবের কোনও প্রামাণ্য নথি কি রয়েছে? নেই। রাম শুধু মহাকাব্যে রয়েছেন। সেই সূত্রে অনেক মানুষের মনে একটা বিশ্বাসও রয়েছে। কিন্তু সেই বিশ্বাসের বলে একটা মসজিদের জমি মন্দিরের নামে হয়ে যেতে পারে না। কালকে যদি আমি বলি, আপনার বাড়ির নিচে আমার একটা বাড়ি রয়েছে, এটা আমার বিশ্বাস, তা হলে কি আপনার বাড়িটা ভেঙে জমিটা আমাকে দিয়ে দেওয়া হবে?’

অশোককুমারের মতে, ‘ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ করা তো আদালতের কাজ নয়। আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় অকাট্য প্রমাণ এবং প্রামাণ্য নথিপত্রের ভিত্তিতে। বাবরি মসজিদ যেখানে ছিল, সেই জমিতে মন্দির তৈরির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট কোন অকাট্য প্রমাণ ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে দিল, সেটা বুঝতে আমার অসুবিধা হয়েছে। বাবরি মসজিদ যে ওখানে ছিল, পাঁচ শতাব্দী ধরে ছিল, সে আমরা সবাই জানি।

বাবরি মসজিদ যে গুণ্ডামি করে ভেঙে দেওয়া হল, সেটাও আমরা দেখেছি। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট এ দিনের রায়েও মেনে নিয়েছে যে, অন্যায়ভাবে মসজিদটা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৫২৮ সালের আগে ওখানে রাম মন্দির ছিল কি না, আমরা কেউ কি নিশ্চিতভাবে জানি? রাম মন্দির ভেঙেই বাবরি মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল, এমন কোনও অকাট্য প্রমাণ কি কেউ দাখিল করতে পেরেছিলেন? পারেননি। তা সত্ত্বেও যে নির্দেশটা শীর্ষ আদালত থেকে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক নয় কি?’

Mustafa Shakir

আরও পড়ুনঃ

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো বিশ্ব

যতই দিন যাচ্ছে সমস্যা সমাধানের পথ যতই বের হচ্ছে ততই বেড়ে চলেছে রোগব্যাধি। সেটা কী আমাদের জনসচেতনতার অভাব নাকি প্রকৃতির দান?  হয়তো আমরা অনেকেই...

এক মাসে ৯জনের মৃত্যু; আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুন হারে বাড়ছে

এক মাসে ৯জনের মৃত্যু; আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুন হারে বাড়ছে। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের এক মাস হয়ে গেলো। এই একমাসে করোনা বা কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন...

করোনা মহামারিতে স্কুল বন্ধ; ক্লাস হচ্ছে টিভিতে

করোনা মহামারিতে স্কুল বন্ধ; ক্লাস হচ্ছে টিভিতে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশ লকডাউন, সাথে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ। এমন অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ সরকার সংসদ...

৩৪ বছর লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন সুচিত্রা সেন

অভিনেতা-অভিনেত্রী মানেই সাধারণ লোকজনের কাছে জনপ্রিয় কোন এক ব্যক্তিত্ব; যার সবসময়ের আপডেট ছবি দর্শকের ঘরে ঘরে, মহল্লায় মহল্লায় টাংগানো থাকে। কিন্তু, বাংলা ও ভারতের...

কমেন্টস